আড়ংয়ের ব্যাগ বিক্রির অর্থ দিয়ে মিয়াওয়াকি বন তৈরি করবে মিশন গ্রিন বাংলাদেশ
আড়ংয়ের ব্যাগ বিক্রির অর্থ দিয়ে মিয়াওয়াকি বন তৈরি করবে মিশন গ্রিন বাংলাদেশ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত মে ১০, ২০২৬
আড়ং এবং পরিবেশবাদী সংগঠন ‘মিশন গ্রিন বাংলাদেশ’ (এমজিবি) এর যৌথ উদ্যোগে দেশব্যাপী ‘মিয়াওয়াকি’ পদ্ধতিতে বন তৈরির একটি বিশেষ প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা জানানো হয়।ব্র্যাকের আড়ংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা আবেদ এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, টেকসই সামাজিক ব্যবসার অংশ হিসেবে আড়ং পরিবেশের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে গ্রাহকদের কেনা প্রতিটি ব্যাগ সরাসরি বনায়ন কর্মসূচিতে অবদান রাখবে। আড়ংয়ের ‘নিজের ব্যাগ আনুন’ (BYOB) ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গত সাত মাসে প্রায় ৪৭ লক্ষ কাগজের ব্যাগ সাশ্রয় হয়েছে, যা প্রায় ৬,০০০ গাছ রক্ষার সমান। এই সময়ে ব্যাগ বিক্রয় থেকে অর্জিত ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ৯০ হাজার ৮১২ টাকার পুরো অংশই বনায়ন এবং পরিবেশ রক্ষায় ডোনেশন আকারে দেওয়া হবে। এই তহবিলের মাধ্যমে দরিদ্র ৪০০০০ নারীদের ৮০,০০০ গাছ প্রদান, নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চলে ৫০,০০০ বৃক্ষরোপণ এবং ডেমরা ও রূপগঞ্জে মিশন গ্রিন বাংলাদেশের সহায়তায় ২০,০০০ গাছের দু’টি ‘মিয়াওয়াকি’ বন গড়ে তোলা হবে।মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি সংবাদ সম্মেলনে মিয়াওয়াকি পদ্ধতির কারিগরি দিক ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “প্রথাগত বনের তুলনায় মিয়াওয়াকি বন ১০ গুণ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ৩০ গুণ বেশি ঘন হয়। বাংলাদেশের বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতিতে শহরের তাপমাত্রা কমাতে এবং দ্রুত বনায়নের জন্য এটি একটি আদর্শ সমাধান।”এই ছোট আকারের ঘন বনগুলো দ্রুত আত্মনির্ভরশীল ইকোসিস্টেম হিসেবে গড়ে ওঠে, যা স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা, প্রচুর পরিমাণে কার্বন শোষণ এবং মাটির ক্ষয়রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কেনাকাটার একটি সাধারণ অভ্যাসকে সরাসরি পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ব্র্যাক ও আড়ংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রিন্ট, অনলাইন ও টিভি মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের সবুজায়ন প্রক্রিয়ায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।