বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ ও আধুনিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে একযোগে ১৫টি নতুন মডেলের অত্যাধুনিক রেফ্রিজারেটর উন্মোচন করেছে। শনিবার রাজধানীর ওয়ালটন করপোরেট অফিসে আয়োজিত এক জমকালো “ওয়ালটন মেগা লঞ্চ” অনুষ্ঠানে এসব নতুন মডেল আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাতকরণের ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ওয়ালটন গ্রুপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বিশিষ্ট বিজ্ঞানী মিম হক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) মো. তানভীরুল হক, গবেষণা ও উদ্ভাবন (R&I) কেন্দ্রের প্রধান আজমল ফেরদৌস এবং মার্কেটিং প্রধান জোহেব আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ওয়ালটনের নতুন এই লাইনআপে স্মার্ট প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আধুনিক জীবনযাত্রার প্রয়োজন অনুযায়ী এই সিরিজে রয়েছে:
প্রিমিয়াম সাইড-বাই-সাইড স্মার্ট ফ্রিজ:অভিজাত পরিবারের জন্য আকর্ষণীয় ডিজাইনের ফ্রিজ।
স্মার্ট ফিচার: ওয়াটার ডিসপেনসারযুক্ত মডেল, নন-ফ্রস্ট ও টপ মাউন্ট রেফ্রিজারেটর।
বিশেষায়িত পণ্য: সোলার-পাওয়ারড চেস্ট ফ্রিজার, ভার্টিক্যাল ফ্রিজার, মিনিবার, ডাবল ডোর এবং আইসক্রিম ফ্রিজার।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাইড-বাই-সাইড ৬২৯ লিটার ৩২ ইঞ্চি ম্যাজিক মিরর মাল্টিমিডিয়া ডিসপ্লে স্মার্ট ফ্রিজ। এই ফ্রিজটিতে রয়েছে ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইউটিউব দেখা, অনলাইন শপিং এবং স্মার্ট হোম কন্ট্রোল করার অত্যাধুনিক সুবিধা।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীরুল হক বলেন, “আমাদের নতুন সিরিজে টার্বো কুলিং, আইওটি (IoT) প্রযুক্তি, এআই (AI) ডাক্তার এবং রিয়েল টাইম তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মতো উদ্ভাবনী বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে। এতে ব্যবহৃত এমএসও (MSO) প্লাস ইনভার্টার সিস্টেম বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও দ্রুত কুলিং নিশ্চিত করবে।”
ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বিজ্ঞানী মিম হক বলেন, “ওয়ালটন বর্তমানে বিশ্বের ৫৫টিরও বেশি দেশে পণ্য রপ্তানি করছে এবং বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে। এই নতুন স্মার্ট মডেলগুলো ব্যবহারকারীর জীবনকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলবে। বিশ্ববাজারে শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডগুলোর তালিকায় স্থান করে নেওয়ার পথে এই সিরিজটি একটি মাইলফলক।”
গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্রের প্রধান আজমল ফেরদৌস জানান, নতুন ডিজাইনে ৫১৫ লিটার ডেডিকেটেড চিলার রুম, সুপার ফ্রিজিং মোড এবং এনার্জি সেভিং ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও বাণিজ্যিক খাতের জন্য ৭২০ লিটার ডাবল ডোর ও কার্ভড ডিজাইনের আইসক্রিম ফ্রিজার বাজারে আনা হয়েছে যা হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও রিটেইল শপের জন্য উপযোগী।
ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে নতুন সিরিজের ফ্রিজগুলোর দাম ১৬ হাজার ৪৯০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ থেকেই দেশব্যাপী সকল ওয়ালটন প্লাজা ও শোরুমে এসব নতুন মডেল পাওয়া যাবে।
ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই নতুন উদ্ভাবনী পণ্যগুলো দেশীয় বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পরিচয় বহন করবে।