বিশ্বজুড়ে শান্তিকামী মানুষের অনুপ্রেরণা ও বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী স্থপতি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। বিদেহী আত্মার অনন্ত শান্তি কামনা করে কবির বিশ্বজনীন মানবিক আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃজনশীলতার মূল ভিত্তি ছিল বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ। কাব্য, সংগীত, কথাসাহিত্য, নাটক ও চিত্রকলার প্রতিটি মাধ্যমে তিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে মানুষ, প্রকৃতি, প্রেম ও মানবতার জয়গান গেয়েছেন। তাঁর এই বিশাল সৃষ্টিসম্ভার কেবল বাংলা সাহিত্যকেই নয়, বরং বিশ্ব সংস্কৃতির চিন্তাজগতকেও সমৃদ্ধ করেছে।
জাতীয় জীবনে কবির অনস্বীকার্য অবদানের কথা স্মরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে রবীন্দ্র-সংগীত ছিল প্রেরণার অন্যতম প্রধান উৎস। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও জীবনসংগ্রামের যে নিখুঁত প্রতিফলন তাঁর সাহিত্যে দেখা যায়, তার একটি বড় অংশ তৎকালীন পূর্ববঙ্গ তথা বর্তমান বাংলাদেশের পটভূমিতে রচিত। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রথম এশীয় হিসেবে নোবেল পুরস্কার অর্জন করে তিনি বাংলা ভাষাকে বিশ্বদরবারে অনন্য উচ্চতায় আসীন করেন। তাঁর রচিত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ আজ আমাদের গর্বিত জাতীয় সংগীত।
বক্তারা বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, আজকের অশান্ত পৃথিবী, জাতিগত সংঘাত ও উগ্রবাদের উত্থানের মোকাবিলায় রবীন্দ্রনাথের অহিংস মতাদর্শ ও বহুত্ববাদী চেতনা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। তিনি কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং ব্যবহারিক শিক্ষা ও মুক্তচিন্তার বাতাবরণ তৈরি করতে শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা শিক্ষার আধুনিকায়নে এক চিরস্থায়ী দৃষ্টান্ত।
রবীন্দ্র-জন্মবার্ষিকীর এবারের সকল আয়োজন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে কবির মানবিক ও মঙ্গলময় চিন্তাধারাকে পাথেয় করে চলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।