সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি ভার্চুয়ালি বক্তৃতা প্রদানকালে তারেক রহমান বক্তব্যে বলেন।
দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু ভোটের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রত্যেকটি নাগরিক নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে নিজের ভোট দিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারবেন, ততদিন পর্যন্ত কোনো নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষিত নয়। শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠিত জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্মানে আয়োজিত শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এতে সারা দেশ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকশ সদস্য অংশ নেন।সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের কথা শোনেন এবং বিভিন্ন বিষয় সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর বড় সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখনো বিপদমুক্ত নয়। এমন একটা পরিস্থিতিতে কোনো কোনো অপশক্তি যাতে আবার গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত লক্ষ্য এবং সাফল্যের ধারাকে ব্যাহত করতে না পারে সেজন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সতর্ক থাকতে হবে।দেশে-বিদেশের সর্বস্তরের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রতি জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ে বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই বাংলাদেশি।
মুসলমান কে, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খৃষ্টান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমাদের এমন কোনো জিজ্ঞাসা কিন্তু ছিলো না। আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু এসব নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি বিশ্বাসী অবিশ্বাসী কিংবা সংস্কারবাদী প্রতিটি নাগরিকের একমাত্র পরিচয় আমরা বাংলাদেশী।আমরা এদেশের নাগরিক।
তিনি বলেন, এজন্য ভারত থেকে দলে দলে সাংবাদিকরা এসেছিলেন। সবাইকে একটা কথা বলেছি যে, এই পরিবর্তনের (ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান) ফলে যেটুকু ঘটেছে, সেটা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক। কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা নয়। আজকে আবার একই চক্রান্ত শুরু হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। এগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা যাবে না। একইভাবে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, এটা কিন্তু আমাদের অবশ্যই রুখে দাঁড়াতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতাসহ ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রায় কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান হিন্দু সম্প্রদায়কে নির্ভয়ে দুর্গাপূজার উৎসব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই বাংলাদেশ আপনার-আমার, আমাদের সবার। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক সব ক্ষেত্রে সমান অধিকার ভোগ করবে, এটাই বিএনপির নীতি, রাজনীতি। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দল বিএনপি বিশ্বাস করে ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।’
হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী মাসেই আপনাদের (হিন্দু সম্প্রদায়) সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আপনারা প্রত্যেকে উৎসব উদযাপন করুন নিশ্চিন্তে,নির্ভয়ে, নিরাপদ।’
বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তপন দে’র যৌথ পরিচালনায় শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, ফেনীর কামাক্ষা চন্দ, খাগড়াছড়ির অজয় সেনগুপ্ত, সাভারের উত্তম ঘোষ, খুলনার সুজনা জলি, বরিশালের সঞ্জয় গুপ্ত, অবসরপ্রাপ্ত টিভি প্রযোজক মনোজ সেনগুপ্ত, গৌড় সিনহা প্রমুখ বক্তব্য দেন।
ইসকনের চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী, চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গোস্বামী, মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, গুলশান পূজা কমিটির জেএল ভৌমিক, পান্না লাল দত্ত,অবসরপ্রাপ্ত টিভি প্রযোজক মনোজ সেন গুপ্ত, হিন্দু বৌদ্ধ,খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নির্মল রোজারিও,হিন্দু মহাজোটের সুশান্ত কুমার চক্রবর্তী বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, আবদুল বারী ড্যানি, অপর্ণা রায়, রমেশ দত্ত, দেবাশীষ রায় মধু, সুশীল বড়ুয়া, জনগোমেজ, মিল্টন বৈদ্যসহ কেন্দ্রীয় এবং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নেতারা এবং গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।