• ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

শিকড় সন্ধানী ‘ইত্যাদি’ এবার নদীবেষ্টিত লক্ষ্মীপুরে

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ২৭, ২০২৬
শিকড় সন্ধানী ‘ইত্যাদি’ এবার নদীবেষ্টিত লক্ষ্মীপুরে

আগামী ৩১ জুলাই বিটিভিতে প্রচারিত হবে ‘ইত্যাদি’র লক্ষ্মীপুর পর্ব নব্বইয়ের দশক থেকেই শিকড়ের সন্ধানে স্টুডিওর চার দেয়াল থেকে বেড়িয়ে দেশের নানা প্রান্তে গিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি। তবে কোনো ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রিসোর্ট, পার্ক কিংবা যে কোন খোলা মাঠে ইত্যাদি ধারণ করা হয় না-কারণ ইত্যাদি ধারণের স্থান নির্বাচনের পেছনে থাকে বিশেষত্ব ও ঐতিহ্যিক গুরুত্ব।

আমাদের লোকজ ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পুরাকীর্তি, পর্যটনের সম্ভাবনা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের অজানা গল্প দর্শকের সামনে তুলে ধরার ধারাবাহিকতায় এবার জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ ধারণ করা হয়েছে নদীবেষ্টিত উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে। জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যকে উপজীব্য করে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শতবর্ষী দালাল বাজার জমিদারবাড়ির স্মৃতিবাহী নবীন কিশোর উচ্চবিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে নির্মাণ করা হয় নান্দনিক মঞ্চ।

অনুষ্ঠান ধারণকে ঘিরে লক্ষ্মীপুরজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। দুপুরের পর থেকেই দর্শকেরা অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠানস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। শুধু সদর উপজেলা নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকেও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রতিবারের মত এবারও স্থানীয় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমেই বিতরণ করা হয়েছে দর্শকদের আমন্ত্রণপত্র। ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি দর্শক উপস্থিত হওয়ায় চারপাশে তৈরি হয় এক অভাবনীয় দৃশ্য। শত শত প্রাণবন্ত মানুষ স্থান করে নেন আশপাশের বহুতল ভবনের ছাদ, প্রাচীর, রাস্তা আর গাছের ডালে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি-কোনো কিছুই দমাতে পারেনি দর্শকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।

এবারের ‘ইত্যাদি’তে থাকছে দুটি বিশেষ গান। গেয়েছেন লক্ষ্মীপুরের শিল্পী তানজিনা রুমা ও ফেনীর শিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুল। কবির বকুলের কথায় গানটির সুর করেছেন আকাশ মাহমুদ। অন্যদিকে, প্রতিবারের মতো এবারও থাকছে জেলার পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। তানজিনা রুমা ও রাজিবের কণ্ঠে গানটির সঙ্গে এস কে জাহিদের কোরিওগ্রাফিতে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় নৃত্যশিল্পীরা।

দর্শক পর্বে লক্ষ্মীপুরকে ঘিরে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে চারজন দর্শককে নির্বাচন করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে তাঁরা লক্ষ্মীপুরেরই কৃতী সন্তান, বরেণ্য অভিনেত্রী দিলারা জামানের সঙ্গে অভিনয়ে অংশ নেন।

এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশী নারী-লক্ষ্মীপুরের গর্ব নিশাত মজুমদারের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার। এভারেস্ট জয়ের সেই ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় নিশাত মজুমদার ও আরেক এভারেস্ট বিজয়ী এম এ মুহিতের হাতে শোভা পাচ্ছিল ‘ইত্যাদি’ লেখা একটি বিশেষ প্ল্যাকার্ড। সাক্ষাৎকারে তিনি এভারেস্ট অভিযানের স্মৃতি ও ‘ইত্যাদি’ নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা বলেছেন।

প্রতিবারের মত এবারের পর্বেও রয়েছে কয়েকটি অনবদ্য প্রতিবেদন। লক্ষ্মীপুরের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য বিস্তৃত মাঠজুড়ে সয়াবিনের সমারোহ, নারিকেল ও সুপারি গাছের সারি। এসবের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুর জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান-স্থাপনার ওপর রয়েছে একটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। শিক্ষা ও উদ্দীপনার অনন্য এক উদাহরণ হিসাবে লক্ষ্মীপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপর রয়েছে উদ্দীপনামূলক প্রতিবেদন।
রয়েছে নদী আর ভাগ্যের সঙ্গে অবিরাম লড়াই করা লক্ষ্মীপুরের এক নিঃস্ব মাঝিকে নিয়ে একটি মানবিক প্রতিবেদন। এক সময় নদী যার আয়ের উৎস ছিল আর আজ সেই নদীই তাদের নিঃস্ব করেছে।

বিদেশি প্রতিবেদন পর্বে তুলে ধরা হবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধফেরত সৈনিকদের উদ্যোগে নির্মিত বিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় উপকূলীয় সড়ক এবং দীর্ঘতম যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ‘গ্রেট ওশান রোড’।

অনুষ্ঠানে থাকছে কাশেম টিভির রিপোর্টার ও নাতির প্রাণবন্ত আলাপ। পাশাপাশি নিয়মিত ‘চিঠিপত্র’ পর্বের সঙ্গে থাকছে সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে একাধিক তীক্ষ্ণ ও তীর্যক নাট্যাংশ। এসব নাট্যাংশে অভিনয় করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় অভিনয় শিল্পীরা।

সব সময়ের মতো ইত্যাদির এবারের পর্বটিও রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। গণমানুষের প্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদির এই পর্বটি প্রচারিত হবে আগামী ৩১ জুলাই, শুক্রবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর, বাংলাদেশ টেলিভিশনে। অনুষ্ঠানটি নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।