বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সম্মেলন কক্ষে আজ ‘ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট (টিএসএ) ২০২৬-২৭’ প্রস্তুত কার্যক্রম সম্পর্কে অংশীজনদের অবহিতকরণ ও জরিপ প্রশ্নপত্র চূড়ান্তকরণ বিষয়ক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন খুলনার কৃতি সন্তান ইনোগ্লোব ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর (Innoglobe travel & tour) এর সম্মানিত সিইও ড. মো. তসলিম আমিন শোভন (Dr.Md toslim Amin Shovon)।
কর্মশালায় দেশের পর্যটন খাতের বিশেষ করে সুন্দরবন ও অভ্যন্তরীণ পর্যটনের সামগ্রিক বিকাশ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, পর্যাপ্ত অবকাঠামো, সঠিক গাইডলাইন এবং সঠিক প্রচারণার অভাবে বিপুল বিনিয়োগের পরও সুন্দরবনকে বিশ্ব দরবারে যথাযথভাবে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে না।
সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় বক্তারা সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবস্থা ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সংকটের কথা তুলে ধরেন।
সভায় সুন্দরবন ভ্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, বছরের পুরো সময়টা সুন্দরবনে পর্যটন ব্যবসা সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। নিয়মতান্ত্রিক নির্দেশনার অভাবে সুন্দরবন ভ্রমণ এখন প্রকৃত পর্যটনের চেয়ে ‘পিকনিকে’ পরিণত হয়েছে, যা প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগের। এছাড়া বন্যপ্রাণীর প্রজননের অজুহাতে বছরের ৩ মাস সুন্দরবন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার যে সরকারি সিদ্ধান্ত রয়েছে, তা পরিবেশ ও এই খাত নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে বিজ্ঞানসম্মত বা যৌক্তিক উপায়ে তুলে ধরা হচ্ছে না।
আলোচনায় সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটনে বেসরকারি খাতের শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করে জানানো হয়, এখানে বিশ্বমানের হেরিটেজকে গ্লোবালি প্রমোট করার চেয়ে কেবল পর্যটন জাহাজগুলোকে বেশি প্রমোট করা হচ্ছে। এই সংকট কাটাতে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি নিয়মকানুনের সংস্কার এবং দক্ষ ‘ট্যুর গাইড’ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। ইনবাউন্ড বা বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে গাইডের ভূমিকা অপরিসীম বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।
কোভিড পরবর্তী সময়ে দেশের পর্যটন খাতে তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রশংসা করে সভায় বলা হয়, দেশের তরুণ প্রজন্ম নিজ উদ্যোগে টাঙ্গুয়ার হাওর, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং সুন্দরবন কেন্দ্রিক ছোট ছোট বিনিয়োগের মাধ্যমে পর্যটন অবকাঠামো ও লজিস্টিকস তৈরি করেন। কিন্তু সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাবে কিছু মানুষের অনিয়মের কারণে এই বিপুল সংখ্যক তরুণ উদ্যোক্তা সাফার বা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই তরুণ শক্তি ও তাদের বিনিয়োগকে রক্ষা করতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়নের জোর দাবি জানানো হয়।
এছাড়া বিদেশী পর্যটকদের কাছে বান্দরবানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়, বর্তমান কিছু পরিস্থিতির কারণে ইনবাউন্ড ট্যুরিজমের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। দেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে সরকার ও বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।