• ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সাথে ইউনেস্কো ঢাকা প্রধানের কৌশলগত বৈঠক: জলবায়ু ঝুঁকি কাটিয়ে বাগেরহাটের বিশ্ব ঐতিহ্য রক্ষায় ইউনেস্কোর নতুন উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ২৭, ২০২৬
সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সাথে ইউনেস্কো ঢাকা প্রধানের কৌশলগত বৈঠক: জলবায়ু ঝুঁকি কাটিয়ে বাগেরহাটের বিশ্ব ঐতিহ্য রক্ষায় ইউনেস্কোর নতুন উদ্যোগ

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরীর সাথে আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে ইউনেস্কো (UNESCO) ঢাকা অফিসের প্রধান ও বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সুসান ভিজে (Dr. Susan Vize)-এর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে ইউনেস্কো বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক প্রধান মিজ্ কিজি তাহনিন (Ms. Kizzy Tahnin) উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ্ কানিজ মওলা এবং যুগ্ম সচিব মিজ্ ইলিয়া সুমনা উপস্থিত ছিলেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতি মন্ত্রী ড. সুসান ভিজে এবং তাঁর প্রতিনিধি দলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বাংলাদেশ ও ইউনেস্কোর মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক ও কারিগরি সম্পর্কের কথা স্মরণ করে মাননীয় মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বৈশ্বিক স্বীকৃতিসহ সংস্কৃতি ও ভাষা রক্ষায় বাংলাদেশের অবদান বিশ্বমঞ্চে অনন্য। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৩ ও ২৪ অনুচ্ছেদের আলোকে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, প্রসার এবং সর্বজনীন বিকাশে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে ইউনেস্কোর সহযোগিতায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা ‘বাগেরহাট ষাট গম্বুজ মসজিদ ও সংলগ্ন প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা’-য় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি হ্রাস এবং লোনা পানি ও পরিবেশগত ক্ষতি থেকে ঐতিহাসিক কাঠামো (যেমন: বেলেপাথরের মেহরাব, স্তম্ভ ও প্রাচীন দেয়াল) সংরক্ষণে ‘আলিফ’ (ALIPH) ফাউন্ডেশনের সহায়তায় প্রস্তাবিত প্রকল্পের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়াও বৈঠকে টাঙ্গাইল শাড়ির ‘ইউনেস্কো অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ (ICH) হিসেবে সাম্প্রতিক বিশ্ব স্বীকৃতি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সাংস্কৃতিক খাতের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে ইউনেস্কোর ‘র‍্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট’ প্রতিবেদন, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল শিল্প (CCI) নীতিমালা, আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক ডিজিটাল আর্কাইভ স্থাপন, জাদুঘর আধুনিকায়ন এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতি জোরদার করার বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।

ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের প্রধান ড. সুসান ভিজে বৈশ্বিক সংস্কৃতি নীতি নির্ধারণে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক খাতের পুনরুজ্জীবন, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউনেস্কোর সর্বাত্মক কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয় এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা স্মারক বিনিময় করা হয়।