• ৪ঠা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

অখন্ড বাঙালির চেতনা ও জাতিসত্ত্বা রক্ষায় মুজতবা আলীর ভূমিকা অপরিসীম

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৪
অখন্ড বাঙালির চেতনা ও জাতিসত্ত্বা রক্ষায় মুজতবা আলীর ভূমিকা অপরিসীম

করিমগঞ্জ সহ বরাক উপত্যকার তিন জেলায় স্মরণ করা হয় নানা কার্যসূচিতে

অরূপ রায়/করিমগঞ্জ(ভারত)

অখন্ড বাঙালি চেতনা এবং বাঙালি জাতিসত্ত্বা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে করিমগঞ্জে সম্পন্ন হল ),১৪ সেপ্টেম্বর,দুদিনব্যাপী মুজতবা আলি সাহিত্য উৎসব।বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কেন্দ্রীয় সমিতির উদ্যোগে এবং করিমগঞ্জ জেলা সমিতির ব্যবস্থাপনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়।বিপন চন্দ্র পাল স্মৃতি ভবনে শনিবার দিনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।কেন্দ্রীয় সমিতির সভাপতি রাধিকারঞ্জন চক্রবর্তীর পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্য।তিনি নিজের ভাষণে সৈয়দ মুজতবা আলীর “অবিশ্বাস্য” থেকে শুরু করে অনেক গ্রন্থের কথা উল্লেখ করলেও বারবার প্রশংসা করেছেন ” শবনব ” এর ।” সৈয়দ মুজতবা আলীর অখণ্ড বাঙালি চেতনা ” শীর্ষক আলোচনা সভায় বারবার তিনি সাহিত্য চর্চা করবেন না বলে কথা দিয়েও দর্শক শ্রোতাদের মন মানসিকতাকে সেই সাহিত্যের দিকেই টেনে নিয়ে যান।তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উঠে আসে।তিনি স্পষ্ট বলেন,যেখানে মহিলার অন্তর্বাস নিয়ে প্রকাশ্যে খেলা হয়,মুজিবের মূর্তি ভাঙ্গা হয়,সেটা আর যাই হোক,বিপ্লব হতে পারে না।বাংলাদেশে যা ঘটেছে সেটা গণতন্ত্র বৈ ফ্যাসিবাদের আস্ফালন বলে মন্তব্য করেন তপোধীরবাবু।তিনি বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে গিয়েছেন এবং তখন সেখানে গিয়ে যা উপলব্ধি করেছেন আজকের বাংলাদেশে সেই অবস্থা নেই বলেও আক্ষেপ করেন তিনি।তাঁর ভাষণে অসমের বর্তমান পরিস্থিতির কথা উঠে আসে।যেখানে উগ্র জাতীয়তাবাদের থাবায় ভাষা আগ্রাসনের ঘটনা প্রতিনিয়ত সংগঠিত হচ্ছে।তিনি বলেন,এই ভাষিক আগ্রাসন থেকে বাঁচতে এবং জাতির অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজন সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের।কেননা আজকের দিনে ধর্মের আধারে বাঙালি জাতিকে পৃথক করে রাখার এক প্রয়াস চলছে।আর এতে ক্রমশ বাঙালি জাতি হিসেবে পরিচয় দেওয়ার ইচ্ছা এবং ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।যে বাঙালি গর্ব করে নিজদের পূর্বসূরি রবীন্দ্রনাথ,নজরুল,মুজতবা সহ আরো অনেক কে নিয়ে।সেই বাঙালির অস্তিত্ব আজকের দিনে সত্যিকার অর্থেই সমস্যার সম্মুখীন।আজ বাঙালিরা শেকড় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলেই নানা ভাবে আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে।তিনি তাঁর তাত্ত্বিক ভাষণে সাহিত্যিক মুজতবা আলির সমাজ দর্শনের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে বলেন,ধর্ম দিয়ে কখনও নিজের জাতির পরিচয় দেননি সৈয়দ মুজতবা আলি। তিনি বাঙালি জাতি সত্বাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।জীবদ্দশায় সৈয়দ মুজতবা ৩১ টি কাব্যগ্রন্থ লিখে গেছেন,১৫ টি ভাষায় কথা বলতে জানতেন।এমন এক আশ্চর্য ব্যক্তি ছিলেন সৈয়দ মুজতবা আলি।তাঁর সাহিত্য কর্মে ফুটে ওঠেছে সমাজ জীবনের সাম্যবাদ।সঞ্জীব দেব লস্করের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সৈয়দ মুজতবা আলির ভাষা প্রেম,বাঙালি চেতনা এবং দেশ ভেদে ভাষা বিবর্তনের ইতিহাসের কথা তুলে ধরেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ বিবেকানন্দ মোহন্ত।সঞ্চালক নিজেও মুজতবা আলির জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে সারগর্ভ ভাষণ রাখেন।সভাপতির ভাষণে রাধিকারঞ্জন চক্রবর্তী এদিনের আলোচনা সভার বক্তাদের বক্তব্যের প্রশংসা করেন।বলেন,ভালো বক্তা হলে সময় কেটে তপোধীর ভট্টাচার্য সে মাপের বক্তা।এদিন শুরুতে আলোচনার বিষয়বস্তুর উপর আলোকপাত করেন কেন্দ্রীয় সমিতির সম্পাদক গৌতমপ্রসাদ দত্ত।অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,সাহিত্য সম্পাদক দীপক সেনগুপ্ত,জেলা সমিতির সভাপতি অরবিন্দ পাল প্রমুখ।ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন করিমগঞ্জ জেলা সমিতির সম্পাদক নন্দকিশোর বণিক।
এখানে উল্লেখ্য ১৯০৪ সালের ঠিক(১৩ সেপ্টেম্বর) আজকের দিনেই এই করিমগঞ্জ শহরেই জন্মেছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি প্রাবন্ধিক রম্য লেখক সৈয়দ মুজতবা আলি। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের করিমগঞ্জ শহর কমিটির ব্যবস্থাপনায় আজ স্থানীয় বিপিন চন্দ্র পাল স্মৃতি ভবনে সৈয়দ মুজতবা আলি সাহিত্য উৎসবের সূচনা হয় । প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাধিকা রঞ্জন চক্রবর্তী, সঙ্গে ছিলেন শহর সমিতির সভাপতি অরবিন্দ পাল, করিমগঞ্জ কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য , সংস্থার সম্পাদক নন্দ কিশোর বণিক প্রমুখ । শুরুতে স্বাগত ভাষণ রাখেন নন্দ কিশোর বণিক । এরপর সৈয়দ মুজতবা আলির জীবন ও সৃষ্টি নিয়ে খুব সুন্দর বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য । তিনি তাঁর বক্তব্যে সৈয়দ মুজতবা আলীর জীবনে কিভাবে রাবীন্দ্রিক প্রভাব পড়েছিল, কিভাবে শান্তিনিকেতনে পড়ার সময় কবিগুরুর সান্নিধ্যে এসেছিলেন, এবং বিশ্বজনীন মুজতবা হয়ে ওঠার একাধিক প্রেক্ষাপট খুব সুন্দর ভাবে নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন তিনি। বক্তব্যের আসর শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান । শনিবারের অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন মাশুক আহমেদ ।

November 2026
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930