• ১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৭শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

হিরোশিমা ও নাগাসাকি দিবস: যুদ্ধ নয়, শান্তির পক্ষে আমাদের অঙ্গীকার

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ১০, ২০২৬
হিরোশিমা ও নাগাসাকি দিবস: যুদ্ধ নয়, শান্তির পক্ষে আমাদের অঙ্গীকার

হিরোশিমা ও নাগাসাকি দিবস উপলক্ষে সেড দ্য ইয়ুথ ফোরাম ও সাকুরাজাকা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচারাল সেন্টারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি।

১৯৪৫ সালের আগস্টে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলায় নিহত অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে গভীর শ্রদ্ধা ও বেদনায় স্মরণ করে মাননীয় মন্ত্রী বলেন, হিরোশিমা ও নাগাসাকি শুধু দুটি শহরের নাম নয়; এগুলো যুদ্ধের ভয়াবহতা, পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা এবং শান্তির অপরিহার্যতার প্রতীক।

তিনি বলেন, আজও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মানবতার ওপর হামলা চলছে। যুদ্ধ ও সংঘাতের সবচেয়ে বড় শিকার সাধারণ মানুষ। তাই আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—যুদ্ধ নয়, শান্তি; ধ্বংস নয়, নির্মাণ; বিদ্বেষ নয়, মানবতা।

মাননীয় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সবসময় শান্তির পক্ষে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের এই অবদান আমাদের শান্তিপ্রিয় চেতনা ও মানবিক দায়িত্ববোধের প্রতিফলন।

তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো বিরোধ চাই না, আমরা শান্তি চাই। তবে শান্তির পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষা করে চলতে চাই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

আলোচনা সভায় কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণকারী প্রখ্যাত বাঙালি বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল-এর ঐতিহাসিক ভূমিকা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী টোকিও ট্রায়ালের অন্যতম বিচারক হিসেবে আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তাঁর দৃঢ় অবস্থান বাংলাদেশ ও জাপানের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন।

বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ ও ধ্বংসের মধ্য দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে জাপানের পুনর্গঠন ও অগ্রযাত্রা মানবিক দৃঢ়তা ও অদম্য প্রত্যয়ের অনন্য দৃষ্টান্ত। দুই দেশের জনগণের মধ্যে শান্তি, মানবতা, সংস্কৃতি ও উন্নয়নের বন্ধন আরও শক্তিশালী করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

মাননীয় মন্ত্রী আরও বলেন, শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় সংস্কৃতির কোনো বিকল্প নেই। গান, কবিতা, নাটক, চিত্রকলা ও সাহিত্য মানুষের হৃদয়ে মানবতা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বোধ জাগিয়ে তুলতে পারে।

তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন—ইতিহাস জানতে হবে, অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং ঘৃণা ও বিদ্বেষের পরিবর্তে সংলাপ, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাকে বেছে নিতে হবে।

আসুন, হিরোশিমা ও নাগাসাকির বেদনাদায়ক ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলি—যেখানে কোনো শিশু যুদ্ধের ভয় নিয়ে বেড়ে উঠবে না, কোনো মা সন্তান হারানোর আতঙ্কে থাকবে না এবং কোনো শহর আর কখনো পারমাণবিক ধ্বংসের শিকার হবে না।
আলোচনা সভা শেষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে অংশ নেন।

জয় হোক মানবতার।
জয় হোক শান্তির।

August 2026
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031