• ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

কুমিল্লায় ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী রামমালা গ্রন্থাগার পরিদর্শন করলেন মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ১০, ২০২৬
কুমিল্লায় ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী রামমালা গ্রন্থাগার পরিদর্শন করলেন মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী ও শতবর্ষী প্রাচীন গবেষণা গ্রন্থাগার ‘রামমালা পাঠাগার’ পরিদর্শন করেছেন।

আজ শুক্রবার (১০ জুলাই, ২০২৬) বিকেলে তিনি এই ঐতিহাসিক পাঠাগারটি পরিদর্শনে যান এবং পরবর্তীতে পাঠাগার চত্বরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, গবেষক ও সুধীজনদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

পরিদর্শনকালে মাননীয় মন্ত্রী রামমালা গ্রন্থাগারের সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, দর্শন ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের প্রায় ১২ হাজার দুর্লভ গ্রন্থ এবং সাড়ে ৮ হাজার হাতে লেখা প্রাচীন পুঁথির সংগ্রহ দেখে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এই অমূল্য সংগ্রহশালাটি অত্যন্ত যত্ন সহকারে ঘুরে দেখেন এবং প্রবাসী, শনিবারের চিঠি, মৌচাক ও পূর্বাশার মতো বাংলা ভাষার দুর্লভ পত্রপত্রিকার সংরক্ষণের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পরবর্তীতে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “রামমালা পাঠাগার শুধু কুমিল্লার নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম ও দর্শনের এক অনন্য জ্ঞানপীঠ। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও জাপানের মতো দেশের গবেষকরাও এই পাঠাগারের গুরুত্ব অনুধাবন করে এখানে ছুটে এসেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা একাডেমির বাইরে এত বড় প্রাচীন পুঁথির সংগ্রহশালা আর কোথাও নেই।”

এই অমূল্য ও ঐতিহাসিক সম্পদসমূহকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে এবং বিশ্বব্যাপী গবেষকদের কাছে সহজলভ্য করার লক্ষ্যে রামমালা গ্রন্থাগারের প্রাচীন পুঁথি ও দুর্লভ বইসমূহ ডিজিটাল সংরক্ষণের (Digitization) উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রী মহোদয় তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী মহোদয় তাঁর বক্তব্যে এই মহান প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর শ্রী মহেশ ভট্টাচার্য এবং পাঠাগারটিকে আজীবন আগলে রাখা সারস্বত সাধক শ্রী রাসমোহন চক্রবর্তীর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, মহেশ ভট্টাচার্যের মতো ব্যক্তিত্বের দূরদর্শিতা ও আর্থিক ত্যাগ এবং রাসমোহন চক্রবর্তীর আজীবন নিরলস সাধনার ফলেই আজকের এই জ্ঞানভাণ্ডার রক্ষা পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মো: মনিরুল হক চৌধুরী (এমপি)।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সুধীজন, রামমালা ছাত্রাবাস ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

July 2026
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031