• ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

মৎস্যজীবী থেকে ভোক্তা-সবাইকে জাটকা সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত এপ্রিল ৮, ২০২৬
মৎস্যজীবী থেকে ভোক্তা-সবাইকে জাটকা সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, জাটকা নিধন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে এবং এ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে মৎস্যজীবী থেকে ভোক্তা-সবাইকে জাটকা সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর সদরের মোলহেডে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে এসব কথা বলেন ।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ দেশের গর্ব ও ঐতিহ্য। ১৯৭৮-৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ইলিশকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে চিহ্নিত করেন। পরবর্তীতে ২০০৩-০৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, একসময় দেশে প্রায় ২০ লক্ষ টন ইলিশ উৎপাদিত হলেও তা কমে প্রায় দুই লক্ষ টনে নেমে আসে। বর্তমানে জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে উৎপাদন পুনরায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাটকা নিধন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা গেলে দেশে ইলিশের উৎপাদন ২০ লক্ষ টন ইলিশ উন্নত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, চাঁদপুর দেশের ইলিশ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, যেখানে মোট উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশ পাওয়া যায়। তবে এক সময়কার প্রাচুর্যের তুলনায় বর্তমানে ইলিশের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে, যার প্রধান কারণ জাটকা নিধন।

মন্ত্রী বলেন, একটি ডিমভর্তি ইলিশ ধরা মানে হাজার হাজার ভবিষ্যৎ মাছ ধ্বংস করা। তাই ইলিশ সংরক্ষণে সবার সচেতনতা জরুরি। তিনি বলেন, সরকার জেলেদের জন্য চাল, তেলসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা প্রদান করছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬৫০০ টাকা। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি জেলেদের দায়িত্বশীল আচরণই ইলিশ সংরক্ষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী জেলেদের উদ্দেশ্যে বলেন, অন্তত দুই মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকলে ছোট ইলিশ বড় হয়ে অধিক ওজনের হবে, যা ভবিষ্যতে বেশি লাভজনক হবে।
তিনি বলেন, ইলিশ এখন আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের একটি পরিচিত ব্র্যান্ড। “ইলিশ মানেই বাংলাদেশ”-এই সুনাম ধরে রাখতে হলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। চাঁদপুর অঞ্চলের চর ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে ইলিশ উৎপাদন আরও বাড়বে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য করেন চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: জিয়া হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অনুরাধা ভদ্র, জেলা প্রাশসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম। এসময় নৌ বাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, স্হানীয় মৎস্যজীবী, জেলেসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930