• ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১লা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

কুমিল্লার বায়োলজিক্স অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড রিসার্চ সেন্টারে ভ্যাকসিন উৎপাদন বাড়ানো হবে- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
কুমিল্লার বায়োলজিক্স অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড রিসার্চ সেন্টারে ভ্যাকসিন উৎপাদন বাড়ানো হবে- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও হাঁস-মুরগির জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের বড় অংশ এখনও আমদানিনির্ভর। এই নির্ভরতা কমিয়ে দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। কুমিল্লার বায়োলজিক্স অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড রিসার্চ সেন্টারকে আধুনিকায়ন করে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের ভ্যাকসিন চাহিদার বড় অংশ এখান থেকেই পূরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার কুমিল্লার বায়োলজিক্স অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড রিসার্চ সেন্টারে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কুমিল্লা জেলার প্রাণিসম্পদ প্রতিষ্ঠানসমূহে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে গবাদিপশুর লাম্পি স্কিন ডিজিজের ভ্যাকসিন উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে বছরে প্রায় পাঁচ লাখ ডোজ উৎপাদিত হলেও চলতি বছর ২০ থেকে ৩০ লাখ ডোজ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে কুমিল্লার এই কেন্দ্র থেকে এক কোটিরও বেশি ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে।

গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, খুরা ও বসন্ত রোগ দেশের গবাদিপশুর জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম। এসব রোগ প্রতিরোধে কৃষকদের আরও সচেতন হতে হবে। সরকার কম খরচে ভ্যাকসিন সরবরাহ করছে এবং ভবিষ্যতে ভ্যাকসিন আরও সহজলভ্য করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় ফলজ ও পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ সংরক্ষণে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। জাম, তেঁতুল, চাপালিশসহ বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় গাছ ব্যাপকভাবে রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী প্রজন্ম দেশের ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষসম্পদের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের অভাবে অনেক সময় কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পান না। এ সমস্যা সমাধানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হলে কৃষিপণ্য রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে তুলতে হবে। কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি বাড়ানো গেলে কৃষক লাভবান হবেন এবং দেশের অর্থনীতিও আরও সমৃদ্ধ হবে।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কুউক) চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: শাহজামান খান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো: আতিয়ার রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল আলমসহ প্রাণিসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী কুমিল্লা জেলার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারী মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারে নবনির্মিত হ্যাচারী উদ্বোধন করেন। হ্যাচারী পরিদর্শনকালে মন্ত্রী ইনকিউবেটরে ডিম ফুটানোর প্রক্রিয়া (ছ্যাটার ও হ্যাচার) সম্পর্কে অবগত হন। এসময় কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: শাহজামান খান, কুমিল্লা সরকারী মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারের উপপরিচালক চন্দন কুমার পোদ্দার, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিউর রহমান রাজীব উপস্থিত ছিলেন।

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930