মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি বলেছেন, আমরা কেউ চিরদিন থাকবো না, এ দেশ থাকবে এবং এ দেশের মানুষ থাকবে; তাই আগামী পঞ্চাশ বছরের চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে প্রদান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তবে একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সামগ্রিক আর্থিক সংগতির বিষয়টিকেও বাস্তবসম্মতভাবে বিবেচনায় রাখতে হবে।
আজ রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিভিডি) ‘The First Open Heart Surgery Day’ ও ‘Cardiovascular Surgical Conference of NICVD-2026’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, এমপি।
দেশে হৃদরোগ চিকিৎসার আধুনিকায়নে যেসকল প্রথিতযশা চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ নিরন্তর শ্রম দিয়েছেন, তাঁদের অবদানকে মন্ত্রী শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। একই সাথে বাংলাদেশে হৃদরোগের চিকিৎসার প্রারম্ভিক পর্যায়ে দক্ষ সার্জন গড়ে তুলতে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করায় বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র জাপানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে হৃদরোগ ও জন্মগত হৃদরোগের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ রোগ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে উৎপাদনশীল কর্মক্ষম জনসংখ্যার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। হৃদরোগ চিকিৎসার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে সরকার ইতোমধ্যে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ভাল্ব এবং স্টেন্ট (রিং)-এর ওপর ট্যাক্স মওকুফ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হওয়ায় বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণের প্রবণতা অনেকাংশেই কমে এসেছে। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে এবং জনকল্যাণে বর্তমান সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ১ লক্ষ ৪৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সরকারের পাশাপাশি এ সকল মানবিক কাজে সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, এমপি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে হৃদরোগের সব ধরনের উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে। বিগত সময়ের অনিয়ম কাটিয়ে বর্তমান সরকার জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যার অংশ হিসেবে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।
আলোচনারপূর্বে মন্ত্রী একটি বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি নিম গাছ রোপণ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালে ডা. জন হেইশাম গিবনের হাত ধরে বিশ্বে ওপেন হার্ট সার্জারির সূচনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, ১৯৮১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার এনআইসিভিডিতে কার্ডিও-পালমোনারি বাইপাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথম সফল ওপেন হার্ট সার্জারি সম্পন্ন হয়। ঐতিহাসিক এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিবছর দেশে ১৮ সেপ্টেম্বর ‘The First Open Heart Surgery Day’ হিসেবে উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক, বিশিষ্ট কার্ডিয়াক সার্জনবৃন্দ, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।