• ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৪ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

নতুন সরকারের সামনে কৃষিখাতের আমূল পরিবর্তনের হাতছানি: বিএনপি’র ইশতেহার ও বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
নতুন সরকারের সামনে কৃষিখাতের আমূল পরিবর্তনের হাতছানি: বিএনপি’র ইশতেহার ও বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ঘোষিত ৫১ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষিখাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থান ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক বিজয়ের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ এখন কৃষির বাস্তবতা মোকাবিলা করা— যেখানে কমছে চাষযোগ্য জমি এবং বাড়ছে উৎপাদন খরচ ও আমদানি-নির্ভরতা।


বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ইশতেহারের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে রাখা হয়েছে। এর অধীনে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে সরাসরি ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বীমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এই সুবিধার আওতায় শুধু শস্য চাষি নয়, বরং মৎস্য চাষি, খামারি এবং কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সেচ, সার ও বীজের ভর্তুকি সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছাবে এবং বাজার সংস্কারের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো হবে।


দীর্ঘ ৩৫ বছর পর একটি সমন্বিত জাতীয় কৃষি পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নতুন সরকারের প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত একটি ‘কৃষি সংস্কার কমিশন’ গঠন করা। তিনি অন্তত ২০ ধরনের পণ্য সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনা এবং কমপক্ষে ২৫ শতাংশ লাভ নিশ্চিত করতে একটি ‘মূল্য কমিশন’ গঠনের ওপর জোর দেন।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চাল ও গম আমদানিতে ব্যয় বেড়ে ২৩০ কোটি ৬০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও পাট বীজের ৭০%, ভুট্টার ৯০% এবং কীটনাশকের ৯০% আমদানি করতে হয়। আমদানির এই উচ্চ ব্যয় কমাতে দেশীয় বীজ গবেষণা ও কীটনাশক শিল্পে নীতি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ এগ্রো কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যথাযথ শুল্ক কাঠামো ও নীতি সহায়তা পেলে এই খাত ওষুধ শিল্পের মতো স্বাবলম্বী হতে পারত।

নতুন সরকারের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত ‘ট্রান্সফরমিং বাংলাদেশ এগ্রিকালচার: আউটলুক ২০৫০’। ২৫ বছর মেয়াদি এই মহাপরিকল্পনার লক্ষ্য হলো টেকসই, জলবায়ু সহনশীল ও বাজারমুখী কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান জানান, ২০৫০ সাল পর্যন্ত একটি সুস্পষ্ট ভিশন বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের (খানি) সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম মাসুদ বলেন, উৎপাদন খরচ কমানো এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলাই এখন কৃষকের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিনি ইউনিয়নভিত্তিক ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন, স্বচ্ছ কৃষক ডেটাবেজ এবং শস্য বীমা চালুর মাধ্যমে কৃষির স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করার পরামর্শ দেন।

কৃষিখাতে এই কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হলে নতুন সরকারের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।