টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের বৃহত্তম পেশাজীবী সংগঠন দ্য ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি), বাংলাদেশ-এর নবনির্বাচিত ১৫তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গলফ গার্ডেন, আর্মি গলফ ক্লাব, ঢাকায় সন্ধ্যা ৭টায় এ অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইটিইটি, বাংলাদেশ-এর সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ এনায়েত হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, মাইক্রো ফাইবার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শামসুজ্জামান (সিআইপি), বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (এ্যাব) বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন এবং সদস্য সচিব প্রকৌশলী শোয়েব বাশরী হাবলু, রাজউক চেয়ারম্যান ও আইইবি সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ার্স ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী এটিএম সামসু উদ্দীন খান।
অনুষ্ঠানে আইটিইটি, বাংলাদেশের ১৫তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের আনুষ্ঠানিক অভিষেক হয়। এ সময় আইটিইটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের টেক্সটাইল প্রকৌশলী, সংগঠনের সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি জাকারিয়া তাহের তার বক্তব্যে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় শিল্পখাত, বিশেষ করে পোশাকশিল্প, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্বাধীনতার পর এ খাত দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে নারী ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে শিল্পখাতের অবদান উল্লেখযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, দেশের শিল্পায়ন ও উৎপাদনব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে তুলতে প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিল্প, সরকার ও প্রকৌশলীদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।
সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম আইটিইটি’র একজন পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নিজের আশা ব্যক্ত করে বলেন, সত্যিকার অর্থেই আইটিইটি (ITET)-র ১৫তম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি যেন ব্যক্তিগত স্বার্থ, দলীয়করণের ঊর্ধ্বে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।
পাশাপাশি তিনি, ‘Together for a Sustainable Textile Future’ গড়তে আইটিইটি ভুমিকা রাখবে বলে তার প্রত্যাশার কথা জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী তার বক্তব্যে বলেন যে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, ‘বাংলাদেশ থেকে কোনো ব্যবসায়ী বিদেশে গেলে দূতাবাসগুলোকে তাঁদের এয়ারপোর্টে রিসিভ করতে হবে, প্রটোকল দিতে হবে এবং মিটিংয়ে সহযোগিতা করতে হবে। কারণ একজন রাষ্ট্রদূত কেবল সরকারি প্রতিনিধি নন, তিনি দেশের একজন “ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর”। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পাওয়া সুযোগ-সুবিধা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ এনায়েত হোসেন উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে উপস্থিত অতিথিদের সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদের দাবী তুলে ধরার আহ্বান জানান। এক্ষেত্রে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর কমার্শিয়াল উইং-এ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ এবং সতন্ত্র টেক্সটাইল ক্যাডার চালুর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।