• ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

চীনে আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশী মেয়েদের পাচার করে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করার আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের মূলহোতাসহ ০৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব -৪

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৫, ২০২৫
চীনে আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশী মেয়েদের পাচার করে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করার আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের মূলহোতাসহ ০৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব -৪


“বাংলাদেশ আমার অহংকার”- এই স্লোগান নিয়ে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
র‌্যাব-৪ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলের পাশাপাশি বিভিন্ন সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সদা সচেষ্ট। আজকে আমরা আপনাদেরকে একটি আর্ন্তজাতিক মানব পাচার চক্র যারা বিশেষ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গার অল্প বয়সী নারীদেরকে আর্কষনীয় বেতনে চায়নাতে চাকুরী দেওয়ার নাম করে পাচার করে এবং চায়নাতে নিয়ে গিয়ে তাদেরকে জোর করে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে এবং বিভিন্ন শারীরিক নির্যাতন চালায়। এই চক্রের মূল হোতা আব্বাসসহ ৪ জনকে আমরা গ্রেফতার করেছি।
এই ঘটনার ভিকটিম এবং মামলার বাদী আমাদের নিকট একটি অভিযোগ দেয় যে, সে এবং তার খালাতো বোন একটি নারী পাচারকারী চক্রের শিকার হয়ে চায়নায় পাচার হয়েছিল এবং তার খালাতো বোন এখনও চায়নাতে বন্দী অবস্থায় আছে এবং প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে। এই বিষয়ে আমাদের কাছে সহায়তা চাইলে আমরা উক্ত ঘটনাটি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ছায়াতদন্ত শুরু করি এবং একপর্যায়ে এই চক্রের মূলহোতাসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করি।
এই ঘটনার ভিকটিম পিরোজপুরে একটি বিউটি পার্লারে কাজ করত। কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এর মাধ্যমে ভিকটিম ও তার খালাত বোন এর সাথে এই মামলার অন্যতম আসামী বাবুর সাথে পরিচয় হয়। ভিকটিম বাবুর কাছে ঢাকায় একটি ভালো কাজের সন্ধান চায়। বাবু তাদেরকে জানায় চায়নাতে আর্কষনীয় বেতনে চাকুরী আছে, বিশেষ করে যারা পার্লারের কাজ জানে এবং তাদেরকে চায়নায় আকর্ষণীয় বেতনে কাজের প্রস্তাব দেয়। তারা এই প্রস্তাবে রাজি হলে, তাদেরকে ঢাকায় নিয়ে আসে এবং এই চক্রের মূলহোতা আব্বাস এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। আব্বাস তাদেরকে আশ্বাস দেয়, চায়নাতে ভালো কাজ আছে এবং তাদেরকে সেখানে পাঠানো যাবে। তাদেরকে সেখানে ১ লক্ষ টাকা বেতনে চাকুরী দেওয়া হবে এবং সেখানে পৌঁছানোর পরপরই ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। এই প্রলোভন দেখানোর পর তাদেরকে পাসপোর্ট ও ভিসা করে সিলভি নামের এক মেয়ের মাধ্যমে চায়নাতে পাঠিয়ে দেয়।
পরবর্তীতে তারা চায়নায় যাওয়ার পর তাদেরকে বিউটি পার্লারে কাজ না দিয়ে তাদের দুই বোনকে আলাদা দুইটি বাসায় রেখে চক্রের সদস্যরা জোর করে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে । এক পর্যায়ে অত্র মামলার বাদী ভিকটিম নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাকে বিভিন্ন শর্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। বাংলাদেশে ফিরে এসে আসামীদের সাথে যোগাযোগ করে, তার যে বোন চায়নাতে আটক আছে, তাকে ফিরিয়ে আনতে বলে। তখন আসামী আব্বাস বাদীর বোনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার আশ্বাস দিয়ে ভিকটিমকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করে। পরবর্তীতে ভিকটিম বুঝতে পারে সে মিথ্যা আশ্বাসে ক্রমাগত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তখন ভিকটিম থানায় একটি মামলা রুজু করে এবং র‌্যাবের কাছেও সহযোগীতা চায়। আমাদের কাছে সহায়তা চাইলে আমরা উক্ত ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে নিবিড়ভাবে ছায়াতদন্ত শুরু করি । তদন্তের এক পর্যায়ে এই চক্রের মূলহোতাসহ অন্যান্য আসামীদের তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান সনাক্ত করে র‌্যাব -৪ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল গত রাতে ঢাকার মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করে।
আসামীরা হলোঃ ১। আব্বাস মোল্লা (৩৬),ফরিদপুর, ২। জাহিদুল ইসলাম ওরফে বাবু (৩১),আদাবর, ঢাকা ৩। মিনার সরদার (৩০),গোপালগঞ্জ ৪। মোহাম্মদ রিপন শেখ (২৮), গোপালগঞ্জ
আসামীদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা প্রায় ০৮ বছরের অধিক সময় ধরে এরকম অসংখ্য মেয়েকে আর্কষনীয় বেতনে চায়নাতে চাকুরী দেওয়ার নাম করে পাচার করে আসছে। অনেক সময় তারা ভিকটিমদেরকে চীনা নাগরিকদের সাথে বিয়ে এবং সে দেশের নাগরিকত্ব ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখায়।
চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে মানব পাচারের মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

July 2026
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031