ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার মোঃ মিলন হাওলাদার (২৫)’কে গুরুতর জখম করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার এজাহারভূক্ত ৪নং আসামি মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৫) ও ৭নং আসামি মোঃ আলিম (২৩)’দ্বয়কে ঢাকা মহানগরীর মোহাম্মদপুর ও রামপুরা থানাধীন এলাকা হতে দুইটি পৃথক অভিযানে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩
১| র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে| অপহরণ, হত্যা, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, জাল নোট ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, মানব পাচারকারী, প্রতারক এবং বিভিন্ন মামলার মৃত্যুদন্ড ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেফতার করে সাধারন জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে|
২| এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখ ২৩১৫ ঘটিকার সময় ঢাকা মহানগরীর মোহাম্মদপুর থানাধীন চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকা হতে ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার মোঃ মিলন হাওলাদার (২৫)’কে গুরুতর জখম করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার এজাহারভূক্ত ৪নং আসামি মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৫), পিতাঃ মোঃ বেল্লাল হাওলাদার, সাং-আদাখোলা, থানাঃ রাজাপুর, জেলাঃ ঝালকাঠি এবং ২৬ জুন ২০২৬ তারিখ ০০১৫ ঘটিকার সময় ঢাকা মহানগরীর রামপুরা থানাধীন মালিবাগ বাজার রোড, মালিবাগ, হোল্ডিং নাম্বার ১০৬২/ সি, জনৈক মো: খন্দকার জিয়াউর রহমানের ভাড়াটিয়া বাসার নিচতলা হতে একই ঘটনার এজাহারভূক্ত ৭নং আসামি মোঃ আলিম (২৩), পিতাঃ বাদল, সাং-আদাখোলা, থানাঃ রাজাপুর, জেলাঃ ঝালকাঠি’দ্বয়কে দুইটি পৃথক অভিযানে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৩|
৩| প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, ভিকটিম মোঃ মিলন হাওলাদার (২৫), পিতাঃ মৃত ˆতয়ব আলী হাওলাদার, সাং-আদাখোলা, থানাঃ রাজাপুর, জেলাঃ ঝালকাঠি পেশায় একজন দিন মজুর| ভিকটিম মিলন হাওলাদার ও একই গ্রামের আউয়াল সরদারের মেয়ে রোজিনার সাথে গত ৮ বছর পূর্বে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে| উক্ত প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে ভিকটিম ও রোজিনার পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল| পরবর্তীতে গত দেড় বছর পূর্বে রোজিনা বেগম বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে ভিকটিমকে বিবাহ করে| এর পর থেকেই রোজিনা বেগমের বাবা আউয়াল সরদার ভিকটিমের সাথে তার মেয়েকে বিবাহ দিবে না বলে নানা হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল| ভিকটিম মিলন ও রোজিনার একটি ৭ মাসের কন্যা সন্তান রয়েছে| বিবাহের কিছুদিন পর থেকেই ভিকটিমের স্ত্রী রোজিনা জনৈক রনি নামের একটি ছেলের সাথে মোবাইলে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে| উক্ত ঘটনায় দুই পরিবারের মধ্যে পারিবারিক কলোহ সৃষ্টি হয় ও ভিকটিমের পরিবার জানায় যে, ভিকটিমের স্ত্রী রোজিনাকে তারা রনির সাথে বিবাহ দিবে এবং রোজিনার পরিবার ভিকটিমকে হত্যার হুমকিও দিয়ে আসছে| উক্ত ঘটনার পর পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ০৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ আনুমানিক দুপুর ০১৪০ ঘটিকার সময় রাজাপুর থানাধীন আদাখোলা সাকিনস্থ আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান হিজবুল্লাহ জামে মসজিদের সামনে ধৃত আসামিদ্বয় ও তাদের সহযোগীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা, দাঁ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভিকটিমের উপর অতর্কিত হামলা করে| ভিকটিম মিলন হাওলাদার মসজিদে ঢোকার চেষ্টা করলে ধৃত আসামিদ্বয় ও তাদের সহযোগীরা ভিকটিমকে এলোপাথারীভাবে কোপাইয়া গুরুতর জখম করে| পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন ভিকটিমকে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিমকে মৃত বলে ঘোষণা করেন| উক্ত ঘটনায় রাজাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হলে রাজাপুর থানার অধিযাচনের ভিত্তিতে র্যাব-৩ উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত ৪নং ও ৭নং আসামিদ্বয়’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়|
৪| ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে|