র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে বিভিন্ন ধরণের অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে| সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি খুন, চাঁদাবাজি, চুরি, কিশোর গ্যাং, ডাকাতি ও ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত বিভিন্ন সংঘবদ্ধ ও সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনির্মাণের জন্য র্যাবের জোরালো তৎপরতা অব্যাহত আছে| এছাড়াও বিভিন্ন হত্যাকান্ডের দীর্ঘদিন যাবৎ আত্মগোপনে থাকা বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনপূর্বক হত্যাকারীদেরকে গ্রেফতার করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে র্যাব সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে|
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৩ এর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৪ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ১৬ মে ২০২৬ তারিখ ১১৫০ ঘটিকার সময় ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন পলাশবাড়ী ছাপড়া মসজিদ বেলতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে
সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানাধীন এলাকায় পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীকে হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রধান আসামী মোঃ উজ্জল প্রামাণিক (৩৬),* পিতাঃ মোঃ মোমিন প্রামাণিক, সাং- বৃ-আঙ্গারু পূর্বপাড়া, থানাঃ শাহজাদপুর, জেলাঃ সিরাজগঞ্জ’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়|
মামলার এজাহার ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, নিহত মোছাঃ তাসলিমা খাতুন (৩২) সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বৃ-আঙ্গারু পূর্বপাড়া এলাকার মোঃ তাহের আলী মন্ডলের মেয়ে| ভিকটিম তাসলিমা খাতুন ও উজ্জল প্রামাণিক এর ১২/১৩ বছর পূর্বে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক পারিবারিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়| বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘর সংসার করাকালে ধৃত আসামি উজ্জল প্রামাণিক এর ঔরষে দুইটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়| বিবাহের পর থেকেই তাদের সংসারে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় তাদের মাঝে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো| ধৃত আসামির মা রহিমা খাতুন এবং বোন মনিজা খাতুন মিলে নিজ বাড়িতে অনৈতিক কাজকর্ম করায় স্থানীয়ভাবে এলাকাবাসি একাধিকবার দরবার সালিশ ও জরিমানার মাধ্যমে শর্তক করা হয়| ভিকটিম তাসলিমা খাতুন তাদের অনৈতিক কাজকর্মে প্রতিবাদ করায় ধৃত আসামি উজ্জল প্রামাণিকসহ তার পরিবারের লোকজন মিলে ভিকটিম তাসলিমা খাতুনকে যোগসাজসে বিভিন্ন ধরণের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে| বিষয়টি ভিকটিম তাসলিমা খাতুন তার পিতা তাহের আলী মন্ডলকে জানাইলে পারিবারিক ভাবে একাধিক বার মিমাংসা করা হয়| ভিকটিম তাসলিামা খাতুন সন্তানদের কথা চিন্তা করে ধৃত আসামি উজ্জল প্রামাণিক এর সহিত সংসার চালিয়ে যায়| পরবর্তীতে গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ০৬০০ ঘটিকার সময় তাহের আলী মন্ডলের মামা ধৃত আসামির বাড়ির পাশেই ডিস লাইন মেরামত করার সময় জানতে পারে নিহত তাসলিমা খাতুন তার স্বামীর পূর্ব দূয়ারী দোচালা টিনের শয়ন ঘরের আড়াঁর (দরনার) সাথে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো মৃত অবস্থায় রয়েছে| বিষয়টি তার পরিবার জানতে পেরে তাৎক্ষনিক ধৃত আসামির বাড়িতে যেয়ে ভিকটিম তাসলিমার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়| ভিকটিমের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি তাকে নির্যাতন করে ঐদিন রাতে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ঘরের আঁড়ার (দরনার) সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে ধৃত উজ্জল ও তার পরিবারের সবাই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়| ভিকটিমের মৃত্যুর পর ধৃত উজ্জল প্রামাণিক ও তার পরিবারের সকলে মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে নিজেদের আত্মগোপন করে রাখেন| নিহতের পিতা তাহের আলী মন্ডল অভিযোগ করেন বিয়ের পর থেকেই স্বামী উজ্জল প্রামাণিক নিহত তাসলিমার ওপর শারীরিক নির্যাতন করতেন| উক্ত ঘটনায় সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হলে র্যাব-৩ ও র্যাব-৪ এর যৌথ আভিযানিক দল কর্তৃক ধৃত উজ্জল প্রামাণিক’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়| উল্লেখ্য যে, বাকি আসামিদের গ্রেফতারের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে|
ধৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে|