• ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবপ্রেমই প্রকৃত ধর্মচর্চার শিক্ষা: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ২৪, ২০২৬
পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবপ্রেমই প্রকৃত ধর্মচর্চার শিক্ষা: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

প্রকৃত ধর্মবিশ্বাসীরা কখনো অন্যের ধর্মবিশ্বাসকে অসম্মান করেন না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, “সকল ধর্মের মানুষই নিজ নিজ উপায়ে সর্বশক্তিমানের সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করেন। তাই ধর্মীয় বিশ্বাসকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও মানবপ্রেমের ভিত্তিতে ধারণ করাই প্রকৃত ধর্মচর্চার শিক্ষা।”

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের মহাপুরুষরা ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে সর্বশক্তিমানের আরাধনা করেছেন। আল্লাহ, ঈশ্বর বা ভগবান—যে নামেই তাঁকে ডাকা হোক না কেন, প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ অন্য সব ধর্মবিশ্বাসীর ঈশ্বরপ্রেমকেও সমানভাবে সম্মান করেন।
তিনি আরও বলেন, শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা মানুষের সাথে ঈশ্বরপ্রেমের এক অনন্য বন্ধনের প্রতীক। একইভাবে ইসলামে নামাজ, খ্রিস্টধর্মে প্রার্থনা, বৌদ্ধধর্মে উপাসনা কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় আচার—সবই মানুষের সর্বশক্তিমানের প্রতি ভালোবাসা ও আত্মসমর্পণের বহিঃপ্রকাশ।

পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে সামাজিক সম্প্রীতির ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে সমাজ, রাষ্ট্র ও মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। বাংলাদেশে যেমন এ ধরনের অপতৎপরতা দেখা যায়, তেমনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রেও ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের নজির রয়েছে।

ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের জাতি, ধর্ম ও মানবতার শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে এই ধরনের অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিজের ধর্মবিশ্বাসে অবিচল থেকে অন্য সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্যেই অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, সরকার ধর্ম, বর্ণ, ভাষা কিংবা পাহাড়-সমতলের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন মেনে নেবে না। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন সকল ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীকে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।

স্বামীবাগ আশ্রমের অধ্যক্ষ ও ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারীর (তথ্যবিবরণী অনুযায়ী: নিতাই স্বামী মহারাজ) সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930