অনুষ্ঠানের প্রাপ্ত অর্থ প্রদান করা হবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে
বাংলা ভাষার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মর্যাদাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া জীবন্ত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা-কে জাতীয়ভাবে সম্মাননা প্রদান করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। একই সাথে একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো এই প্রখ্যাত শিল্পীর একক সঙ্গীতানুষ্ঠান।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় শুক্রবার ২৪ জুলাই ২০২৬ (৯ শ্রাবণ ১৪৩৩), সন্ধ্যা ৬:৩০টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আড়ম্বরপূর্ণ এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। এই বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা। অনুষ্ঠান থেকে অর্জিত সকল অর্থ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রদান করা হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় এই সঙ্গীত তারকা বহু বছর ধরে বাংলা, উর্দু, হিন্দি, ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় গান গেয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। তাঁর কণ্ঠে সঙ্গীত কেবল বিনোদনের অনুষঙ্গ নয়; তা হয়ে উঠেছে সৌন্দর্যবোধ, মানবিকতা, আবেগ, প্রেম, দেশাত্মবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের এক চিরন্তন ভাষা। সঙ্গীত ভুবনে তাঁর অসামান্য অবদান এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই জাতীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, “রুনা লায়লা বাংলাদেশের সঙ্গীত ভুবনের এক অনন্য দীপশিখা। তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সঙ্গীত জীবন আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অমূল্য সম্পদ।”
একক সঙ্গীতানুষ্ঠানে রুনা লায়লা তাঁর কালজয়ী ও শ্রোতানন্দিত গানগুলো পরিবেশন করেন।
দর্শক-শ্রোতারা মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাঁর পরিবেশনা উপভোগ করেন। সঙ্গীত পরিবেশনার ফাঁকে বরেণ্য এই শিল্পী দেশের সংকটাপন্ন সময়ে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে গভীর আবেগ প্রকাশ করেন এবং সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সুধীজন, বরেণ্য সংস্কৃতিসেবী ও দেশি-विदेशी গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।