• ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

সাংবাদিকদের উপর আঘাত করা মানেই আমার উপর আঘাত করা: পুলিশ কমিশনার

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ১৫, ২০২৬
সাংবাদিকদের উপর আঘাত করা মানেই আমার উপর আঘাত করা: পুলিশ কমিশনার

খুলনায় সাংবাদিকদের উপর গুলি বর্ষণ ঘটনা সন্ত্রাসীদের জন্য একটি মেসেজ

খুলনায় গভীর রাতে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় জোরেসোরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। খুলনা মেট্রেপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ জাহিদুল হাসান বলেছেন, সাংবাদিকদের উপর আঘাত করা মানেই আমার উপর আঘাত করা। কাজেই ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত এবং ঘটনার কারণ উদঘাটনে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি, পিবিআইসহ একাধিক সংস্থা কাজ শুরু করেছে।

এদিকে খুলনায় খুন, রাহাজানী, চাঁদাবাজী, দখলদারী, কর্তৃত্ব ঘটনার ধারাবাহিকতার মধ্যে সাংবাদিকদের উপর গুলির ঘটনাটি সন্ত্রাসীদের একটি মেসেজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন খুলনার নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন খুলনার সাংবাদিক সমাজ। প্রতিবাদে আজ বুধবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে সাংবাদিকরা।

পুুলিশ ও স্থানীয়সূত্র জানায় গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় নগরীর জাতিসংঘ শিশুপার্কের পশ্চিম পাশে জলিলের দোকানের সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন চারজন সাংবাদিক।

এই দোকানের পাশে কয়েকজন সাংবাদিক প্রায় প্রতিদিন আড্ডা দেন। মঙ্গলবার রাতে এখানে বসে ৪ জন সাংবাদিক গল্প করছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আসা দুজন যুবক তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় একটি গুলি চেয়ারের পায়ায় বিদ্ধ হয়। গুলিটি সাংবাদিক আওয়ালের বুকে লেগে হাল্কা চামড়া ছিড়ে যায়। এতে তিনি সামান্য আহত হন।

এসএ টিভির সাংবাদিক রকিবুল ইসলাম মতি বলেন, ‘রাতে আমরা কয়েকজন সাংবাদিক এখানে আড্ডা দিচ্ছিলাম। মোটরসাইকেলে আসা দুজন যুবক আমাদের লক্ষ্য করে পরপর দুটি গুলি ছোড়ে। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ আসে।’

দৈনিক খুলনাঞ্চলের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সৈয়দ রানা কবির বলেন, ‘দুর্বৃত্তের ছোড়া একটি গুলি চেয়ারে বিদ্ধ হয়। এর একটি স্প্লিন্টার সাংবাদিক আওয়ালের বুকে লেগে কিছু অংশ ছিলে যায়। তিনি সুস্থ আছেন।’

এদিকে ঘটনার পরপরই পুলিশ জোর তদন্ত শুরু করে। আজ বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে সাংবাদিকদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালে খুলনা মেট্রেপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ জাহিদুল হাসান অন্যান্য অফিসারদের সাথে নিয়ে প্রেসক্লাবে আসেন। তিিিন সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেন, রাতে ঘটনা জানার পরপরই ঘটনাস্থলে স্থানীয় থানার ওসিসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের পাঠাই। ওই সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে আলোর স্বল্পতার কারণে সিটি টিভিতে সন্ত্রাসীদের চেহারা সনাক্ত করা যায়নি। এছাড়া মোটর সাইকেলের নম্বর প্লেটও বোঝা যাচ্ছেনা।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের উপর আঘাত করা মানেই আমার উপর আঘাত করা। কাজেই এ ঘটনার সত্যতা জানা দরকার। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত এবং ঘটনার কারণ উদঘাটনে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি, পিবিআইসহ একাধিক সংস্থা কাজ শুরু করেছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ঘটনাস্থলে যে চারজন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলো, তাদের মধ্যে কাকে টার্গেট করে গুলি চালানো হয়েছে এটি বের করা হবে।

এদিকে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বোগ প্রকাশ করে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব আ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, সাংবাদিকদের উপর গুলির ঘটনাটি সন্ত্রাসীদের একটি মেসেজ। এভাবে সন্ত্রাস বাড়তে থাকলে খুলনার এই শহরটি বাসযোগ্যতা হারাবে।

খুলনা প্রেসক্লাব তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খুলনা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। ঘটনার সঙ্গে জড়িদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

বিবৃতি দাতারা হলেন, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার, সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন, মো. জাহিদুল ইসলাম ও কাজী শামীম আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম, যুগ্ম-সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন সজল, কোষাধ্যক্ষ বিমল সাহা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ মিলন, পাঠাগার, প্রকাশনা ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক বশির হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ মাকসুদুর রহমান (মাকসুদ), কাজী মোতাহার রহমান, মহেন্দ্রনাথ সেন, সোহেল মাহমুদ. মো. আনিস উদ্দিন, কে এম জিয়াউস সাদাত, আশরাফ-উল-হক ও মোহাম্মদ আলী।

এমইউজের (একাংশ) নিন্দা ও প্রতিবাদ

সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) নেতৃবৃন্দ।

বিবৃতিতে দিয়েছেন মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিয়ার পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা, কোষাধক্ষ্য এ এইচ এম শামিমুজ্জামান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অনুরূপ বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজে সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আবু তৈয়ব, ডঃ মুহাম্মদ জাকির হোসেন, ও সাবেক নির্বাহী সদস্য শেখ দিদারুল আলম।

এমইউজের (অপর অংশ) প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানবন্ধন

চার সাংবাদিককে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্ত্বদের গুলিবর্ষণের প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে আজ বুধবার দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার (অপর অংশ) উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তৃতা খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের উপর এ ধরনের হামলা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি স্বরূপ। যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তারা আইনের শাসন ও বাকস্বাধীনতার শত্রু। সাংবাদিকরা যদি নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকেন, তবে তা মুক্ত সাংবাদিকতার পথকে সংকুচিত করে দেয়। তিনি হুমায়ুন কবীর বালু, মানিক চন্দ্র সাহা, শেখ বেলাল উদ্দিন ও হারুন অর রশীদ খোকনসহ খুলনায় নিহত সকল সাংবাদিক হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেন।

এমইউজে খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নূরের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন ও খুলনা সংবাদ পত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিল্টন।

July 2026
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031