এলিট ফোর্স হিসেবে র্যাব আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই আইনের শাসন সমুন্নত রেখে দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাধ চিহ্নিতকরণ, প্রতিরোধ, শান্তি ও জনশৃংখলা রক্ষায় কাজ করে আসছে। র্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, খুনী, ছিনতাইকারী, অপহরণ ও প্রতারকদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরীর শাহ আলী থানাধীন মুক্ত বাংলা শপিং কমপ্লেক্স এর সামনে থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পাবনা জেলার ভাঙ্গুরা থানার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোঃ শফিকুল ইসলাম (৩৮), পিতাঃ মোঃ ইব্রাহিম প্রামানিক, সাং-ভদ্রপাড়া, থানাঃ ভাঙ্গুরা, জেলাঃ পাবনা’কে ০৮/০৯/২০২৬ তারিখ ১৫১০ ঘটিকায় দীর্ঘ ১৭ বছর পর গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৩।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ধৃত আসামি শফিকুল ও তার সহযোগীরা ২০০৯ সালের ২৪ আগস্ট রাতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ভিকটিম ফারুকের ভ্যান ভাড়া নেয়। সেই রাতে ভিকটিম ফারুক বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর নিয়ে কোথাও না পেয়ে ভাঙ্গুরা থানা পুলিশকে অবগত করে। উক্ত ঘটনার এক সপ্তাহ পর ভাঙ্গুরা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ওসমান আলীর পুকুরে ভিকটিম ফারুকের মৃতদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে গত ০১ সেপ্টেম্বর ২০০৯ তারিখে পাবনা জেলার ভাঙ্গুরা থানায় ১৮-২০ জনের নামে একটি হত্যা মামলা রুজু করলে পুলিশ কর্তৃক আসামি বিলকিস ও আবদুল করিমকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ধৃত আসামি ও তার সহযোগীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের জন্যই ভিকটিম ফারুককে কৌশলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে কৌশলে ভিকটিমকে মদ খাইয়ে তার নিকট থাকা টাকা, স্বর্ণের চেইন এবং ভ্যান জোর পূর্বক নেয়ার চেষ্টা করলে ভিকটিম বাঁধা দেয়। পরবর্তীতে ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশে গুরুতর জখমের মাধ্যমে রক্তাক্ত করে মরদেহ পুকুরে ফেলে দেয়। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে জেলা ও দায়রা জজ আদালত, পাবনা উক্ত ঘটনার ১০ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন। যার মধ্যে আসামি বিলকিস ও আবদুল করিম কারাগারে থাকলেও অন্য আসামিগণ দীর্ঘদিন যাবৎ পলাতক। উল্লেখ্য যে, মামলা রুজু হওয়ার পর থেকে ধৃত আসামি মোঃ শফিকুল ইসলাম দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে পলাতক অবস্থায় নিজের নাম ও বেশভূষা পরিবর্তন করে জীবন যাপন করে আসছে। পরবর্তীতে পাবনা জেলার ভাঙ্গুরা থানার অধিযাচনের ভিত্তিতে র্যাব-৩ কর্তৃক ছায়া তদন্ত শুরু করে ধৃত শফিকুল ইসলাম এর অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। র্যাব-৩ কর্তৃক উক্ত মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ধৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।