দীর্ঘ ১৮ মাস পরিত্যক্ত থাকার পর খুলনায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন একদল নেতাকর্মী। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুইদিন পর এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল পৌনে ৫টার দিকে সোনাডাঙা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক টি এম আরিফের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী নগরীর দলীয় কার্যালয়ের নিচতলার কলাপসিবল গেটের তালা খুলে দোতলায় প্রবেশ করেন। তারা কার্যালয়ের সামনের খোলা চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন। এ সময় তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর পুনরায় কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে চলে যান। মিছিলে রাশেদ সরদার ও জাহাঙ্গীর হোসেনসহ পরিচিত বেশ কিছু মুখকে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় ক্ষুব্ধ জনতা এই কার্যালয়টিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল। সেই থেকে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।
ঘটনাটি ঘটার পরপরই স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও লাইভ প্রচার করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। খবর পেয়ে উৎসুক জনতা ও সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আহমদ হামিম রাহাত। তিনি বলেন, “নির্বাচন শেষ হওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় আদালতের নির্দেশে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের এমন তৎপরতা আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত থাকা সত্ত্বেও এই দুঃসাহস দেখানোর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো মহলের ইন্ধন রয়েছে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর এই ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ না হলে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।