জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। একই সঙ্গে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের বিগ্রহকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও অপপ্রচারের অভিযোগে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট দীনবন্ধু রায়, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার পাল, প্রধান সমন্বয়কারী বিজয় কৃষ্ণ ভট্টাচার্য, সহ-সভাপতি দুলাল কুমার মন্ডল, নিতাই দে সরকার, যুগ্ম মহাসচিব বিশ্বনাথ মোহন্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক কিশোর কুমার বর্মনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মূল দাবিসমূহ ও বক্তব্য:
লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বৈষম্য, নির্যাতন ও প্রতিনিধিত্ব সংকটের মুখোমুখি। বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাদের জনসংখ্যার অনুপাতে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছে না। তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংরক্ষিত আসন এবং পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমেই কেবল সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের বিগ্রহকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির তীব্র নিন্দা জানানো হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিগ্রহ নির্মাণকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ভগবান শ্রীরামের প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত করা হয়েছে।
হিন্দু মহাজোটের নেতারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাসনার স্বাধীনতা বাংলাদেশের সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত। কোনো ধর্মীয় প্রতীক বা উপাস্যকে অবমাননা করার ঘটনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য মারাত্মক হুমকি। বক্তারা
পলাশবাড়ীর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে এই দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সারাদেশে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, সাংবিধানিক অধিকার এবং মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সকল সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।