• ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১লা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস ফোরামে ১২ দেশের পক্ষে বাংলাদেশের আইসিটি মন্ত্রীর স্বাগত বক্তব্য: ডিজিটাল রূপান্তরের ব্যর্থতা কমাতে পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ২৪, ২০২৬
জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস ফোরামে ১২ দেশের পক্ষে বাংলাদেশের আইসিটি মন্ত্রীর স্বাগত বক্তব্য: ডিজিটাল রূপান্তরের ব্যর্থতা কমাতে পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান

জর্জিয়ার তিবিলিসিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস ফোরামে (UNPSF) আন্তঃআঞ্চলিক প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ১২টি দেশের পক্ষে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেছেন বাংলাদেশের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

​আজ জর্জিয়ার তিবিলিসিতে আয়োজিত এক বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী ককেশাস, মধ্য এশিয়া এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পারস্পরিক অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন. তিনি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য রিপাবলিক অব কোরিয়ার সরকার, দেশটির স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল ইনফরমেশন সোসাইটি (NIA), ইউএনডিপি (UNDP) এবং আস্তানা সিভিল সার্ভিস হাবের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

​মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল রূপান্তরের যাত্রায় ব্যর্থতার হার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। এই বিশাল ঝুঁকি কাটিয়ে উঠতে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার কোনো বিকল্প নেই. তিনি বলেন, এই ধরনের পিয়ার-টু-পিয়ার এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা (South-South Cooperation) কেবল উন্নয়নের অনুষঙ্গ নয়, বরং উন্নয়নেরই একটি অন্যতম মূল অংশ. এক দেশের সফল সমাধান অন্য দেশের উদ্ভাবন ও অগ্রগতির অনুপ্রেরণা হতে পারে।

​এবারের ফোরামের মূল প্রতিপাদ্য ‘Transforming Public Institutions: Advancing Innovation, Accountability, Participation and Inclusion’-এর ওপর আলোকপাত করে মন্ত্রী উদ্ভাবন (Innovation),জবাবদিহিতা (Accountability) এবং অন্তর্ভুক্তি (Inclusion) বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

​বাংলাদেশের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং আইসিটি বিভাগের নেতৃত্বে বাংলাদেশে একটি নাগরিক-কেন্দ্রিক ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে. নাগরিক প্রত্যাশা পূরণে বাংলাদেশ ‘সার্ভিস ডেলিভারি ম্যাচিউরিটি মডেল’ এবং আরও চটপটে কাজের জন্য ‘প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি’ গ্রহণ করছে. প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের মানসিকতা পরিবর্তন ও রূপান্তরকারী নেতৃত্ব (Transformation Leadership) গঠনেও কাজ চলছে।

​বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) গুরুত্ব উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জনসেবায় দক্ষতা ও মান বাড়াতে এআই-এর যেমন বিশাল সুযোগ রয়েছে, তেমনি এর সুশাসন (AI Governance), স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা জরুরি. বাংলাদেশ বর্তমানে ইউএনডিপি (UNDP)-এর সাথে যৌথভাবে জনসেবা, নীতি নির্ধারণ এবং স্যান্ডবক্সিংয়ের ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহারিক দিক নিয়ে কাজ করছে. একই সাথে সীমিত সম্পদের মধ্যে এআই সার্বভৌমত্ব, দায়িত্বশীল ব্যবহার, পক্ষপাতহীনতা এবং এর প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ।

এরপর মন্ত্রী কম্বোডিয়ার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এইচ.ই. ভ্যানডেথ চেয়া (H.E. Vandeth Chea), আজারবাইজানের এএসএএন ইনোভেশনস সেন্টারের (ASAN Innovations Centre) নির্বাহী পরিচালক মি. ভুসাল রুস্তমভ (Mr. Vusal Rustamov) এবং কাজাখস্তানের ‘আস্তানা সিভিল সার্ভিস হাব’ (Astana Civil Service Hub)-এর চেয়ারম্যান আলিখান বাইমেনভ (Alikhan Baimenov) এর সাথে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন ।বৈঠকগুলোতে মন্ত্রী এটুআই (a2i)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের নাগরিক-কেন্দ্রিক ডিজিটাল অর্জনের সাফল্য তুলে ধরেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) ভিত্তিক পরবর্তী ধাপের আধুনিকীকরণে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের আহ্বান জানান। বৈঠকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী অর্জন নিশ্চিত করা হয়েছে। যেমন:
বাংলাদেশ-আজারবাইজান পার্টনারশিপ:
আজারবাইজানের বিশ্বখ্যাত ‘ASAN সার্ভিস’ এবং বাংলাদেশের সমন্বিত ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্মের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি টেকসই ও কাঠামোগত দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি গঠনে দুই দেশ একমত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে নাগরিক-কেন্দ্রিক সেবা সরবরাহ এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশ-কম্বোডিয়া ডিজিটাল এক্সচেঞ্জ: দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে প্রান্তিক পর্যায়ে প্রযুক্তিগত সেবা পৌঁছানো এবং সরকারি কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের বিষয়ে যৌথ ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। ইউএনডিপি (UNDP) ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের অধীনে এই প্রযুক্তিগত জ্ঞান-বিনিময় ও স্টাডি ভিজিট পরিচালিত হবে।

উদ্ভাবন সংস্থা (Innovation Agency) গঠনে বৈশ্বিক সহায়তা: আস্তানা সিভিল সার্ভিস হাবের (কাজাখস্তান) সাথে বৈঠকের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—এটুআই (a2i)-এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে একটি সম্পূর্ণ নতুন ‘উদ্ভাবন সংস্থা’ (Innovation Agency) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত। এই সংস্থা গঠন, গবেষণা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের আধুনিক নেতৃত্ব উন্নয়ন প্রশিক্ষণে কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা দেবে আস্তানা হাব।

এক নজরে মূল অর্জন:
বৈঠকগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশ কেবল তার ডিজিটাল সাফল্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিই পায়নি, বরং ভবিষ্যৎ স্মার্ট গভর্নেন্সের জন্য ‘এআই ইন গভর্ন্যান্স’ এবং ‘ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ (DPI) বিনির্মাণে শক্তিশালী বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব ও কারিগরি সহায়তার পথ সুগম করেছে।

​সবশেষে, মন্ত্রী ফোরামে অংশগ্রহণকারী ১২টি দেশের পক্ষ থেকে পারস্পরিক শিখন ও যৌথ অগ্রগতির প্রতি পুনর্ব্যক্ত করে একটি ফলপ্রসূ ও অনুপ্রেরণাদায়ী ফোরাম কামনা করেন।

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930