নজরুলবর্ষ উপলক্ষে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে আজ (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মানবপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য ও দেশপ্রেমের চেতনা নতুন প্রজন্মের জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। তিনি বলেন, “নজরুলচর্চার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত হবে। সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশই একটি আলোকিত সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।”
মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ত্রিশালে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরুল বর্ষ ঘোষণার মাধ্যমে সারা দেশে নজরুলচর্চাকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন। তিনি জানান, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ভিকারুননিসা নূনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বলেন, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান দেশ গঠনে মেধাবী ও সংস্কৃতিমনা প্রজন্ম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মন্ত্রী কবির বিখ্যাত কবিতা “বল বীর—চির উন্নত মম শির” আবৃত্তি করে নজরুলকে বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে ইসলামী সংগীত ও শ্যামাসংগীত রচনার মাধ্যমে নজরুল ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কবির রচনায় আরবি, ফারসি, উর্দু ও বিভিন্ন বিদেশি শব্দের সৃজনশীল ব্যবহার বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী “গাহি সাম্যের গান” থেকে কয়েকটি চরণ আবৃত্তি করে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা তুলে ধরেন এবং “এক হাতে মোর বাঁশের বাঁশরি, আরেক হাতে রণতূর্য” আবৃত্তির মাধ্যমে প্রেম ও দ্রোহের যুগল রূপে কবিকে ব্যাখ্যা করেন।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও নজরুল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশে নৌকাবাইচ, যাত্রাশিল্প, বাউল গান, হাছন রাজা, লালন ও বিজয় সরকারের গানের চর্চা ও প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, পাহাড় ও সমতলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মিলনেই গড়ে উঠেছে এই নদীমাতৃক বাংলাদেশের অনন্য ঐতিহ্য। সংস্কৃতির বিকাশে সংস্কৃতি, পর্যটন, তথ্য ও পররাষ্ট্রসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ছাত্রীদের উদ্দেশে মন্ত্রী নারীশক্তির জাগরণ ও নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল ও নদী খনন, জলাধার নির্মাণসহ উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে বলেন, গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার জনগণের কল্যাণে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
অনুষ্ঠান শেষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব মাজেদা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক ও বিপুলসংখ্যক ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।