ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এর বল সদর দপ্তরে গত ৮ জুন থেকে ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী ৫৭তম বিএসএফ-বিজিবি মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সমন্বয় সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলনে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফ-এর মহাপরিচালক শ্রী প্রবীণ কুমার, আইপিএস (Shri Praveen Kumar, IPS) এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
সম্মেলনটি অত্যন্ত আন্তরিক, ইতিবাচক এবং দূরদর্শী পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দুই সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতা এবং পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন ঘটায়। বিএসএফ এবং বিজিবি-এর মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা হিসেবে, এই সীমান্ত সমন্বয় সম্মেলনটি সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়গুলো পর্যালোচনা এবং বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।
আলোচনাকালে উভয় পক্ষই আন্তঃসীমান্ত অপরাধ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করার উপায়সমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এর মধ্যে মাদক, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, সোনা এবং অন্যান্য চোরাচালান সামগ্রী পাচার রোধের পাশাপাশি অবৈধ সীমান্ত পারাপার ও মানব পাচার বন্ধের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া উভয় প্রতিনিধিদল সীমান্ত এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু, অবৈধ/অসাবধানতাবশত/জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রম, সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (Coordinated Border Management Plan – CBMP) বাস্তবায়ন, আস্থা তৈরির পদক্ষেপ (Confidence-Building Measures) এবং সীমান্তে উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আরও নিবিড় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে আলোচনা করেন।
আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং সীমান্ত সুরক্ষাকে বিঘ্নিত করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতি অনুসরণের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতি উভয় পক্ষই তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সমন্বিত টহল (Coordinated Patrols) জোরদার করা, নজরদারি বৃদ্ধি করা, রিয়েল-টাইম (তাৎক্ষণিক) তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে যৌথ প্রচেষ্টা আরও তীব্র করতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সীমানার পবিত্রতা সম্পর্কে সীমান্তবাসীদের সচেতন করা এবং সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
১১ জুন ২০২৬ তারিখে উভয় পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে আলোচনার যৌথ কার্যবিবরণী (Joint Record of Discussions) স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই সম্মেলন সমাপ্ত হয়। উভয় প্রতিনিধিদলই আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সমঝোতাগুলো দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে।
উল্লেখ্য যে, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে আগামী মহাপরিচালক পর্যায়ের (DG Level) পরবর্তী সম্মেলনটি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের ঢাকায় অনুষ্ঠিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।