বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জলবায়ু সহনশীল সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই বায়োইকোনমি (Bioeconomy) প্রসারে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও সুদৃঢ় আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি ।
আজ বুধবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (UNESCAP) কর্তৃক আয়োজিত ‘কমিটি অন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এর ৯ম অধিবেশনের মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে (Ministerial Roundtable Intervention) পরিবেশমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। অধিবেশন চলাকালে UNESCAP-এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি মিস লিন ইয়াং-এর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বাংলাদেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং এ সংক্রান্ত জাতীয় ও আঞ্চলিক পদক্ষেপের রূপরেখা তুলে ধরেন।
পরিবেশমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক বায়োইকোনমির বাজার বর্তমানে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৭.৭ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে অবশ্যই পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে, যাতে কৃষক, জেলে, নারী এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ বা ডেল্টা দেশ হওয়ায় প্রতিনিয়ত বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা এবং তীব্র তাপদাহের মতো জলবায়ুজনিত সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০২৪ সালে তীব্র তাপদাহের কারণে বাংলাদেশের প্রায় ১.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ২৫ মিলিয়ন কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সেতুবন্ধন হিসেবে টেকসই বায়োইকোনমি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককস্থ জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সরকার, এসক্যাপ (ESCAP), এফএও (FAO), এডিপিসি (ADPC) এবং ইউএনইপি (UNEP) এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অপর এক আলোচনা সভায় আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশের সোনালী আঁশ ‘পাট’ ঐতিহ্যবাহী চটের বস্তা থেকে এখন উচ্চ-মূল্যের বহুমুখী সবুজ পণ্যে রূপান্তরিত হচ্ছে এবং প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ‘সোনালী ব্যাগ’ উৎপাদনে বাংলাদেশ সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এছাড়া দেশের গ্রামীণ জ্বালানি সংকট নিরসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বায়োগ্যাস ও উন্নত চুল্লি কর্মসূচি এবং দুর্গম উপকূলীয় অঞ্চলে ৪.১৩ মিলিয়নেরও বেশি সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ১৮ মিলিয়ন মানুষের কাছে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার অনন্য অভিজ্ঞতার কথা তিনি উল্লেখ করেন। ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্লু-বায়োইকোনমি ও ম্যানগ্রোভ বনায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি-এর দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও নীতিগত অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ৩ আর (3R) পদ্ধতি ও সার্কুলার ফিউচার মডেলের মাধ্যমে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পুরোদমে এগিয়ে চলছে।