• ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

দক্ষিণ এশিয়ার দেড় শতাধিক জলবায়ু কর্মীর অংশগ্রহণে নেপালে শুরু হলো ২য় ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট ক্যাম্প ২০২৬

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ৭, ২০২৬
দক্ষিণ এশিয়ার দেড় শতাধিক জলবায়ু কর্মীর অংশগ্রহণে নেপালে শুরু হলো ২য় ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট ক্যাম্প ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু নেতৃত্ব, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে নেপালে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক জলবায়ু ক্যাম্প-২০২৬ (2nd International Climate Camp 2026)। ৭ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত কাঠমান্ডু ও পোখরায় অনুষ্ঠেয় এই আয়োজনে বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ১৫০-এর বেশি তরুণ জলবায়ু কর্মী, গবেষক, শিক্ষার্থী ও পরিবেশ আন্দোলনের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

ক্যাম্পটির আয়োজন করেছে সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (C3ER); ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি; এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (APMDD); ল্যান্ড আওয়ার ফিউচার নেপাল; সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (CAPS) এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশ। সহযোগী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ, নেপাল ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং জলবায়ু বিষয়ক নেটওয়ার্ক।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় কাঠমান্ডুর Walnut Bistro-তে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে নেপাল সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, আন্তর্জাতিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সীমান্ত অতিক্রম করে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

পাঁচ দিনের এই ক্যাম্পে জলবায়ু বিজ্ঞান, নেতৃত্ব বিকাশ, কমিউনিটিভিত্তিক অভিযোজন, নীতি সংলাপ, পরিবেশ শিক্ষা এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি থাকবে সারাংকোটে সূর্যোদয় উপভোগ, ফেওয়া লেকে নৌবিহার, ট্রেকিং, ত্রিশুলি নদী অঞ্চলে পরিবেশভিত্তিক কার্যক্রম এবং স্থানীয় টেকসই উদ্যোগ পরিদর্শনের সুযোগ।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই ক্যাম্প দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মধ্যে জলবায়ু নেতৃত্বের নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে এবং নিজ নিজ দেশে টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে অংশগ্রহণকারীদের সক্ষমতা আরও বাড়াবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নেপালের কৃষি, বন ও পরিবেশমন্ত্রী গীতা চৌধুরী বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় উন্নত বিশ্বের সহযোগিতা চাওয়া মানে ভিক্ষা চাওয়া নয়, এটা আমাদের অধিকার। তারা দূষণ করে আমাদের বিপদে ফেলছে তাদেরকেই এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অধিকার আদায়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ঐক্য খুবই জরুরি। এ ধরনের আয়োজন ঐক্যের জন্য খুবই সহায়ক।

নেপালের সংসদ সদস্য ও এপিএমডিডি চেয়ারম্যান ড. অর্জুন কার্কি বলেন, জলবায়ু সংকট কোন দেশের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলা করতে হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই কাজ সহজ হবে। বিনিয়োগ, জ্ঞান ও পারশ্বারিক সহায়তার মাধ্যমে এই কাজ করা আমাদের দায়িত্ব।

নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শফিকুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন কোনো তাত্মিক বিষয় নয়, বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের জন্য এটা এখন কঠিন বাস্তবতা। জলবায়ুর এই অভিঘাত মোকাবিলায় এখন দক্ষতা অর্জন ও সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। প্রয়োজন তথ্য ও প্রযুক্তি বিনিময়। এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমেই তৈরি হতে পারে দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগ।

এর আগে ২০২৫ সালের ৫-৯ জুলাই নেপালের কাঠমান্ডু ও নাগারকোটে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আন্তর্জাতিক জলবায়ু ক্যাম্প-২০২৬। সেই আয়োজনেও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার শতাধিক জলবায়ুকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

July 2026
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031