• ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

শাহবাগে সনাতনী সম্প্রদায়ের মন্দির বাড়িঘর ভাঙচুর নির্যাতনের প্রতিবাদে লাখো মানুষের মিছিল সমাবেশ চলছে

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ১০, ২০২৪
শাহবাগে সনাতনী সম্প্রদায়ের মন্দির বাড়িঘর ভাঙচুর নির্যাতনের প্রতিবাদে লাখো মানুষের মিছিল সমাবেশ চলছে

বাংলাদেশে ৫ আগষ্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই দেশব্যাপী ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিশেষ করে হিন্দুদের বাড়ীঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ কোথাও কোথাও প্রাণ নাশের হুমকি অব্যাহত রয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ প্রশাসন ও সিভিল প্রশাসন সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং ভেঙেপড়ায় এক শ্রেণীর সুযোগ সন্ধানী দুস্কৃতিকারীরা শহরাঞ্চলে গণডাকাতিতে লিপ্ত হয়েছে। এমনি পরিস্থিতিতে শান্তিপ্রিয় হিন্দুসম্প্রদায়ের মানুষ শহর বন্দর গ্রাম সর্বত্রই অজানা এক ভীতিকর পরিস্থিতিতে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের উত্তরাঞ্চলে ঠাকুরগাও, দিনাজপুর, পঞ্চগড় প্রভৃতি জেলার হিন্দু অধ্যুসিত অঞ্চলের মানুষ জীবন বাঁচানোর তাগিদে বাপদাদার ভিটাবাড়ী ফেলে সীমান্তবর্তী অঞ্চল ভারতে আশ্রয়ের জন্য প্রতিদিন জড়ো হচ্ছে। এমনি পরিস্থিতিতে সনাতন ধর্মীয় ৫০টি সামাজিক সংগঠনের সর্ববৃহৎ প্লাটফরম “সম্মিলিত সনাতন পরিষদ” রাজপথে প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত হয়ে হিন্দু সম্প্রদায় বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মিছিল সমাবেশ করে।

এদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের চরম আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে সরকার যায় সরকার আসে কিন্তু দুর্ভাগ্য হিন্দু সম্প্রদায় প্রতিবারই রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে কেন এই বিভীষিকাময় পরিস্থিতির শিকার হবে? আমরা ধর্মীয়ভাবে জাতিগত সংখ্যালঘু কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী এদেশের সকল মানুষ সমমর্যাদাপূর্ণ। স্বাধীনতার পাঁচ দশকেও সংবিধানের এই চরম সত্যটি অবজ্ঞা করে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বাধীনতা উত্তর কাল থেকেই হিন্দু সম্প্রদায় মধ্যযুগীয় নির্যাতনের টার্গেটে পরিনত হয়ে আসছে। যেটি কোনভাবেই কাম্য হতে পারেনা।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর গণ অভ্যুত্থানের বিজয় এদেশের সকল ধর্ম বর্ণের মানুষের এক কাঙ্খিত বিজয়, এই বিজয়কে সুসংহত করে বৈষম্যহীন রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তুলতে আমরাও অন্তর্বর্তী সরকারের সফলতা কামনা করে প্রতিবাদ সভা থেকে অভিনন্দন জানাই। আমরা আশাবাদী বিশ্ব বরেণ্য খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব শান্তিতে নোবেল জয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস

দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দায়িত্বভার গ্রহণ করে অতিদ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠা করে ভেঙেপড়া আইনশৃঙ্খলার দ্রুত উন্নতিসাধন কল্পে সফল হবেন। তাই আমরা রাজপথের এই প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে জোড়ালোভাবে দাবী জানাচ্ছি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মনে আস্থা ও মনোবল ফিরিয়ে আনতে দেশব্যাপী সেনা টহল আরও বৃদ্ধি এবং জোরদার করে অতি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করণে সচেষ্ট হবেন।