• ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ৪, ২০২৬
স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ

দেশের স্বাস্থ্যখাতের বাজেট, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য করণীয় নিয়ে আলোচনা করতে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)-এর ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বাজেট সংলাপ: অগ্রাধিকার, ঘাটতি ও করণীয়’ শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনার আয়োজন করে । বৃহস্পতিবার (০৪ জুন, ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি) কনফারেন্স রুমে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও উৎপাদনশীল জাতি গঠনে স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এ খাতে কার্যকর বাজেট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গবেষণা ও তথ্য-উপাত্তভিত্তিক নীতিনির্ধারণে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি তাঁর বক্তব্যে তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়ন, সরকারি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং স্বাস্থ্য খাতে অধিক বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে সকল নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়। তিনি আরও একটি ন্যায়সঙ্গত ও সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে উন্নত সেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএপি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান জনাব কে. এম. মুজিবুল হক। তিনি জাতীয় উন্নয়নে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি একাডেমিয়া, সরকার, শিল্পখাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে আরও শক্তিশালী সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য, ইউএপি। তিনি তাঁর বক্তব্যে স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং বরাদ্দকৃত সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি গবেষণাভিত্তিক নীতি প্রণয়ন ও ধারাবাহিক নীতিগত সংলাপ জোরদারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক। তিনি দেশের স্বাস্থ্যখাতের অর্থায়ন কাঠামো, বাজেট বরাদ্দের বর্তমান চিত্র, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান ও প্রাপ্যতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি তথ্যভিত্তিক সুপারিশ উপস্থাপন করেন, যার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে দক্ষতা, ন্যায্যতা, সেবার প্রাপ্যতা এবং সামগ্রিক গুণগত মান উন্নয়ন সম্ভব হবে।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন: অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা, ভারপ্রাপ্ত ডিন, ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; অধ্যাপক ড. লিয়াকত আলী, অনারারি চিফ সায়েন্টিস্ট ও উপদেষ্টা, পাথিকৃৎ ইনস্টিটিউট অব হেলথ স্টাডিজ, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য; ড. এম. এইচ. চৌধুরী লেলিন, চেয়ারম্যান, হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতাল; অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিক্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহরিয়ার, ডিন, স্কুল অব ফার্মেসি, ইউএপি; অধ্যাপক ড. শামসাদ আহমেদ, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, ইউএপি; এবং ড. নুরুল আমিন নাহিদ, অতিরিক্ত কর কমিশনার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. এম. এ. বাকী খলিলী, ডিন, স্কুল অব বিজনেস, ইউএপি এবং সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. নাজমা বেগম, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ, ইউএপি।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জনাব সারোয়ার রাজ্জাক চৌধুরী, বিভাগীয় প্রধান, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, ইউএপি, সহ বিভাগীয় শিক্ষকবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যখাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গবেষণালব্ধ তথ্যের ব্যবহার, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার সমন্বয় দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব করে তুলতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, উন্নয়নকর্মী এবং বিভিন্ন খাতের অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনায় স্বাস্থ্যখাতে কার্যকর বাজেট ব্যবস্থাপনা, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং একাডেমিয়া-শিল্পখাতের সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী, টেকসই ও জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

July 2026
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031