জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ (House of Representatives) ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) টোকিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আগামী শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করা হবে। একইসাথে তিনি আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দেশে একটি আগাম (স্ন্যাপ) সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ডাক দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে তাকাইচি জানান, তার সরকারের প্রস্তাবিত ব্যয় পরিকল্পনা এবং সাহসী অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতিগুলোর বিষয়ে তিনি সরাসরি জনগণের রায় বা ‘ম্যান্ডেট’ চান। তিনি বলেন, “সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উপযুক্ত কি না এবং দেশের পরিচালনার দায়িত্ব ভোটাররা আমার ওপর অর্পণ করতে চান কি না—তা নির্ধারণের সময় এসেছে।”
গত বছরের ২১ অক্টোবর জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন কট্টর রক্ষণশীল এই নেত্রী। তবে পার্লামেন্টে তার জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অত্যন্ত ক্ষীণ হওয়ায় নীতি বাস্তবায়নে তাকে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছিল। বর্তমান উচ্চ জনসমর্থন (Approval Ratings) কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনই তার মূল লক্ষ্য।
২৩ জানুয়ারি (শুক্রবার): আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমান পার্লামেন্ট বা নিম্নকক্ষ বিলুপ্ত করা হবে।
২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার): দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে।
৮ ফেব্রুয়ারি (রবিবার): ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং একই দিন থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন জাপানের অর্থনৈতিক সংস্কার এবং প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে তাকাইচির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী অথবা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। প্রধান বিরোধী দলগুলোও ইতোমধ্যে এই আগাম নির্বাচনের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছে।