• ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

মাদ্রিদ প্রোটোকলে অন্তর্ভুক্তির আগে নীতিমালার প্রস্তুতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারের তাগিদ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ২, ২০২৫
মাদ্রিদ প্রোটোকলে অন্তর্ভুক্তির আগে নীতিমালার প্রস্তুতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারের তাগিদ

বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট, শিল্প মন্ত্রণালয় ও পেটেন্টস, ডিজাইনস্ অ্যান্ড ট্রেডমার্কস্ বিভাগ-এর উদ্যোগে ১ জুন ২০২৫ তারিখে বিল্ড-এর সম্মেলন কক্ষে ট্রেডমার্ক (সংশোধন) আইন, ২০২৫ সংক্রান্ত উচ্চ-পর্যায়ের একটি যৌথ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এই সংলাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসায়িক উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো পর্যালোচনা করে এবং প্রয়োগের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাদের প্রস্তুতি যাচাই করা।

ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯ সংশোধনের উদ্দেশ্যে বিশেষ করে ট্রিপস চুক্তি, মাদ্রিদ প্রোটোকল, নাইস ও ভিয়েনা শ্রেণীবিন্যাস ব্যবস্থাসহ আন্তর্জাতিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন। সেশনে অংশগ্রহণকারী বিশেষ করে আইপি আইনজীবীরা জোর দেন যে, যদিও বৈশ্বিক আইপি মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য করা গুরুত্বপূর্ণ, তবে স্থানীয় প্রশাসনিক সক্ষমতা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) প্রস্তুতি এবং আইনি সহায়তার সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারগুলোও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

বিল্ড-এর সিইও ফেরদৌস আরা বেগমের উপস্থাপনায় জানা যায় যে বৈদেশিক আবেদনকারীদের ট্রেডমার্ক সনদ প্রদানের হার ৭০% যা অভ্যন্তরীণ আবেদনকারীদের দারুণভাবে ছাপিয়ে যায়। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে আইনি জ্ঞানের ঘাটতি, সহায়ক সেবা ও তথ্যের অভাব চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এর ফলে স্থানীয় উদ্যোক্তা, বিশেষ করে নারীদের ও ক্ষুদ্র-স্থানীয়দের জন্য ব্র্যান্ড সুরক্ষা এবং রপ্তানি বাজারে প্রবেশের পথে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

সংলাপে অংশগ্রহণকারী আইনজীবীরা জানান, মাদ্রিদ প্রোটোকলে অন্তর্ভুক্তির আগে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা নির্ধারণ করা জরুরি, যাতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী দায়িত্বশীল ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়। তারা উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশ উইপোর

নির্ধারিত মানের নিচে অবস্থান করছে; ফলে প্রোটোকল অনুযায়ী বাধ্যবাধকতা পালনের লক্ষ্যে একটি সুসংগঠিত নীতিকাঠামো প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংলাপে উপস্থিত বক্তারা ভিয়েনা চুক্তি অনুযায়ী ট্রেডমার্ক শ্রেণীবিন্যাস ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার আধুনিকায়নের জন্য ডিপিডিটির প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে, নতুন আইনে অপ্রথাগত ট্রেডমার্ক যেমন থ্রিডি ছবি, রঙ ও গন্ধ অন্তর্ভুক্ত করায় সংশ্লিষ্ট জটিল নিবন্ধন প্রক্রিয়া পরিচালনায় ডিপিডিটির বর্তমান সক্ষমতা যথেষ্ট কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন। এছাড়া, ইপিএ, এফটিএ ও পিটিএ আলোচনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে আইপি খাতের সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নতুন নীতিতে পার্শ্ববর্তী আমদানির সুযোগ থাকায় অবৈধ আমদানি বাড়ার ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা হয়। ডিপিডিটি বর্তমানে পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা রাখে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

আইন অনুযায়ী মামলাগুলো জেলা জজ আদালতে দায়ের করার ক্ষমতা আগের মতোই থাকায় অংশগ্রহণকারীরা প্রশ্ন করেন যে, নতুন এই পরিবর্তন কি অতীতের পদ্ধতিগত জটিলতা দূর করবে, নাকি আগের মতই অদক্ষতা পুনরাবৃত্তি করবে?

সংলাপে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা একমত হন যে এসএমই, স্টার্টআপ এবং আইপি সুরক্ষায় আগ্রহী উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য ট্রেডমার্ক নিবন্ধন ফি হ্রাস, একক-সার্ভিস সেবা প্ল্যাটফর্ম চালু এবং নিবন্ধন ও সুরক্ষা প্রক্রিয়া সহজতর করা অত্যন্ত জরুরি। অংশগ্রহণকারীরা জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সমঝোতা ও চুক্তিতে বাংলাদেশের সফল একীভুকরণ নিশ্চিত করতে হলে নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য, প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণমূলক প্রস্তুতি অপরিহার্য।

এ অনুষ্ঠানে সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ, আইনি পেশাজীবী, ব্যারিস্টার, ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ, নারী উদ্যোক্তা, বাণিজ্যিক সংগঠন প্রতিনিধিরা এবং আইপি প্র্যাকটিশনাররা অংশগ্রহণ করেন। ডিপিডিটি-এর পরিচালক

মোঃ জিল্লুর রহমান ও সহকারী পরিচালক মোঃ বেলাল হোসেন সহ অনেকে বৈঠকে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।