ন্যায্য শ্রম অধিকারের দাবিতে বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ
ন্যায্য শ্রম অধিকার, চাকরির নিরাপত্তা এবং বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ।
আজ শনিবার ২৭ জুন ২০২৬ তারিখে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই প্রেস রিলিজ ও লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। তেজগাঁওয়ে ঐক্য পরিষদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক মোঃ জান্নাতুন নাঈমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আউটসোর্সিং ও অন্যান্য অস্থায়ী কর্মচারীরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কর্মচারীদের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত প্রধান ৪ দফা দাবি তুলে ধরা হয়:
আউটসোর্সিং ঠিকাদারি প্রথা বিলুপ্ত করে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মচারীদের সঙ্গে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি করতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী বা আত্তীকরণ করতে হবে।
টেন্ডার পরিবর্তন বা অন্য কোনো অযৌক্তিক কারণে চাকরিচ্যুত করা কর্মচারীদের অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে এবং তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
আউটসোর্সিংসহ সকল অস্থায়ী কর্মচারীকে পে-স্কেল বা সমমানের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে চিকিৎসা ভাতা, বাসস্থান, রেশন, শিক্ষা ভাতা ও টিফিনসহ বৈষম্যহীন সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
নিয়মবহির্ভূত ছাঁটাইয়ের তদন্ত ও ব্যবস্থা: প্রচলিত শ্রম আইন এবং সরকারি আউটসোর্সিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে যেসব ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্মচারী ছাঁটাই করা হয়েছে, সেগুলো তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ছাঁটাইকৃত কর্মচারীদের পুনর্বহাল করতে হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চেয়ে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে আউটসোর্সিং ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র, বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাব্য অনিয়ম এবং এর আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক আলোচনা করা যায়।
নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের এই দাবি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়; এটি ন্যায্য শ্রম অধিকার, চাকরির নিরাপত্তা এবং বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও শ্রমবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি।”