আওয়ামীলীগ এর একক শাসন ও কর্তৃত্ববাদের জন্য যারা রাজনীতি করবে তাদের ঠাঁই এ দেশে হবে না বলে জানিয়েছেন দীর্ঘ ৯ বছর পর দেশে ফেরা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (১১ আগস্ট) ঢাকায় ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এই বিএনপি নেতা। এ সময় ধৈর্য্য ধরে দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এসময় সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ছাত্র জনতাকে অভিনন্দন জানাই। এই স্বাধীনতা ও বিজয়কে অর্থবহ করতে হবে। গণতান্ত্রিক কাঠামো সংস্কার করে প্রকৃত গণতন্ত্র উপহার দিতে হবে। এ দেশের জনগণ যেন সুফল ভোগ করতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ রবিবার (১১ আগস্ট) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতা, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দরেই নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন সালাহউদ্দিন আহমেদ। বিমানবন্দর থেকে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে যাবেন, সেখানে তিনি শ্রদ্ধা জানান।
দেশে ফেরার পর ভিআইপি লাউঞ্জে সালাহউদ্দিন আহমেদকে স্বাগত জানান বিএনপি ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদসহ অনেকে।
শিলংয়ের জজ আদালতের রায়ে ভারতে অবস্থান করা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বেকসুর খালাস পান গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর ওই বছরের ১২ জুন রাতে ট্রাভেল পারমিট হাতে পান তিনি। ওই সময় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (৭ জানুয়ারি ২০২৪) সামনে রেখে তিনি দিল্লি সফর করেন। এরপর সেখানে চিকিৎসা নেন তিনি।
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ২০১৫ সালের ১১ মে থেকে শিলংয়ে ছিলেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ। তার আগে দেশের ভেতরেই দুই মাস নিখোঁজ ছিলেন তিনি।
বিএনপি দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ১৩/বি নম্বর সড়কে ৪৯/বি নম্বর বাড়ির ২/বি নম্বর ফ্ল্যাট থেকে র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সালাহউদ্দিনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর দুই মাস পর পাশের দেশ ভারতে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় তাকে। সালাহউদ্দিনের নিখোঁজের পর সংবাদ সম্মেলন করে তার সন্ধান দাবি করেছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।উদ্ধারের পর মামলা হয় তার বিরুদ্ধে।
ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। প্রায় সাড়ে তিন বছর মামলার কার্যক্রম চলার পর ২০১৮ সালের ১৩ আগস্ট বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়। ওই বছরের ২৬ অক্টোবর আদালতের রায়ে অনুপ্রবেশের দায়ে করা মামলায় নির্দোষ হিসেবে রায় পান সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরে আবার ভারত সরকারপক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। এরপর গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের শিলংয়ের জজ কোর্টের রায়ে তিনি বেকসুর খালাস পান।