রাজধানীর গুলশান থেকে মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
এদিকে রাতে দিলীপ কুমার আগরওয়ালার গুলশানের অফিসে অভিযান চালায় র্যাবের কর্মকর্তারা। র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস অভিযানের কথা জানান।
রাজধানীর বাড্ডা থানায় মো. শাহাদাত হোসেন খান বাদী হয়ে দিলীপ কুমারের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি গত ২৩ আগস্ট রুজু করা হয়েছে। মামলায় দিলীপ কুমারের বিরুদ্ধে হত্যা ও সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলার ২০ নং আসামি তিনি। সিআইডির পুলিশ সুপার আজাদ রহমান জানান, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়ালার বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা আমদানির নামে বিদেশে অর্থপাচার, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।
এসময় তিনি জানান, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ডায়মন্ডের বদলে উন্নতমানের কাচের টুকরো বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গুলশানের তার নিজস্ব অফিসটিতে অভিযান চালানো হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়ালার বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা আমদানির নামে বিদেশে অর্থপাচার, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তার গুলশানের অফিসে অভিযান চালাচ্ছে র্যাবের একটি দল। অভিযান শেষে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালানের অভিযোগে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডির)। মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে সিআইডি।
বিজ্ঞপ্তিতে জানোনো হয়, সংস্থাটির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান শুরু করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীলিপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা আমদানির নামে বিদেশে অর্থপাচার, প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন জেলায় নাম মাত্র শোরুমের মাধ্যমে উন্নত মানের কাচের টুকরোকে প্রকৃত ডায়মন্ড হিসেবে বিক্রয়, দুবাই- সিংগাপুরে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ভারতের কলকাতায় তিনটি জুয়েলারি দোকান ও ১১টি বাগি এবং মালয়েশিয়া, দুবাই ও কানাডায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং প্রতারণার মাধ্যমে ৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে অবৈধভাবে একটি ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে পাওয়ায় সিআইডি ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম কর্তৃক মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান শুরু করেছে।
দিলীপ কুমার আগারওয়ালা পরপর দুই বার আওয়ামী লীগের শিল্প বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য ছিলেন।গত নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে তিনি পরাজিত হন।ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীলিপ কুমার আগরওয়ালার নানা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশ করে একটি দৈনিক পত্রিকা।