উপমহাদেশের সংগীত আকাশের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, অনন্য মধুকণ্ঠী গানের পাখি সুমন কল্যাণপুর আর নেই। গত ৩১ মে মুম্বাইতে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (প্রয়াণকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর)। লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে, গীতা দত্ত এবং শামশাদ বেগমের মতো কিংবদন্তিদের সমান্তরালে থেকেও নিজস্ব অনবদ্য মৌলিক গায়কীর গুণে তিনি নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছিলেন। তাঁর এই মহাপ্রয়াণে সংগীতজগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো।
১৯৩৭ সালের ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন এই মহান শিল্পী। তাঁর পিতা শংকর রাও হেমাদি তৎকালীন সেন্ট্রাল ব্যাংকের ঢাকা শাখায় কর্মরত ছিলেন। শৈশবের এই সূত্রপাত এবং ঢাকার মাটির আবেগের কারণেই হয়তো সুমনের বাংলা ভাষার উচ্চারণ ছিল একদম নিখুঁত ও সাবলীল। বাংলা সংগীতের প্রতি তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ।
সুমন কল্যাণপুর কেবল হিন্দি বা বাংলাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই শিল্পী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ৯টি ভিন্ন ভাষায় কণ্ঠ দিয়েছেন এবং শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তাঁর গাওয়া অসংখ্য কালজয়ী গান আজও সংগীতপ্রেমীদের মনে দোলা দেয়।
সুমন কল্যাণপুরের প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক ও সংগীত অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং তাঁর অগণিত ভক্ত-অনুরাগীদের পক্ষ থেকে এই সুরসম্রাজ্ঞীর স্মৃতিতে নিবেদন করা হচ্ছে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।