বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান সম্পূর্ণ বন্ধ করতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প চালু করার ঘোষণা দিয়েছে ভারত। এই প্রকল্পের আওতায় ড্রোন, শক্তিশালী রাডার এবং স্মার্ট ক্যামেরাসহ নানাবিধ আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হবে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সীমান্তরক্ষাকারী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) সদর দপ্তরে আয়োজিত বার্ষিক ‘রুস্তমজী স্মারক বক্তৃতা’ অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
অনুষ্ঠানে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন: “আমি বিএসএফকে এই মর্মে নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, শিগগিরই আমরা বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছি। ২০২৫ সালে বিএসএফের ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সময় আমরা এই বিশেষ পরিকল্পনাটি নিয়েছিলাম। উন্নত ও বহুমুখী প্রযুক্তির সহায়তায় এ দুই দেশের সীমান্তে অনুপ্রবেশ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।”
তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে বিএসএফ সদস্যদের ড্রোন, রাডার ও স্মার্ট ক্যামেরাসহ বিভিন্ন আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ভারতের লক্ষ্য শুধু সীমান্ত অনুপ্রবেশ ঠেকানোই নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরে থাকা প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে বিদায় করা।
এক নজরে ভারত-বাংলাদেশ ও ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত তথ্য:
বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত: ৪,৪২৭ কিলোমিটার।
পাকিস্তান-ভারত স্থলসীমান্ত: ৩,৩২৩ কিলোমিটার।
সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে: বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)।
উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালে ভারতীয় পুলিশ কর্মকর্তা কে. এফ. রুস্তমজীর হাত ধরে বিএসএফ গঠিত হয়েছিল। বর্তমানে ২ লাখ ৭০ হাজার কর্মকর্তা ও সদস্য নিয়ে এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ সীমান্তরক্ষী বাহিনী। রুস্তমজীর অবদানকে স্মরণ করে প্রতি বছর ২২ মে বিএসএফের পক্ষ থেকে এই স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে, ভারতের নেপাল, ভুটান ও তিব্বত সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে রয়েছে পৃথক আধা সামরিক বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) এবং ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি)।