শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বলাৎকারের ঘটনাগুলোর তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচী পালন করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। দেশের সকল মসজিদ-মাদ্রাসায় তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন কর্মসূচীতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুনের সঞ্চালনায় উক্ত কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। উক্ত লিফলেট বিতরণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সিনিয়র ইমাম ড: সৈয়দ মুহাম্মদ ইমদাদ উদ্দীন। আরোও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি শাহীন মাতবর, মাকসুদ হাওলাদার, রোমান হোসেনসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচীতে বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের সিনিয়র ইমাম ড: সৈয়দ মুহাম্মদ ইমদাদ হোসেন বলেন, “ধর্ষণের ন্যায় বলাৎকারের বিরুদ্ধেও আমাদেরকে সোচ্চার হতে হবে। মাদ্রাসার বলাৎকারের ঘটনাগুলো অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ইসলাম বিরোধী। বলাৎকারের সাথে জড়িতরা কখনোই ইসলামের আদর্শ ধারণ করে না। এদেরকে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। দেশের সকল মসজিদ-মাদ্রাসায় বলাৎকারের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়ায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কে আমি সাধুবাদ জানাই।”
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতারা বলেন, “আমরা কখনোই দেশের প্রকৃত আলেম-ওলামাদের বিপক্ষে কথা বলিনি। ইসলামের প্রকৃত আদর্শ চর্চাকারী আলেম-ওলামাদের কে আমরা সবসময় সম্মান ও শ্রদ্ধা করি। কিন্তু ধর্মীয় লেবাসধারী কতিপয় ভণ্ড আলেম যারা মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বলাৎকার করে যাচ্ছে এবং বলাৎকারের সমর্থন দিচ্ছে শুধুমাত্র তাদের বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদ করে আসছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। আমরা মনে করি, বলাৎকার কারীরা প্রকৃতপক্ষে এজিদের বংশধর। এরা ইসলামের শত্রু। এসব ধর্ম ব্যবসায়ীরা পবিত্র মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এরা দেশের সংবিধান ও আইন মানে না। ইবাদতের জন্য পবিত্র মসজিদ। অথচ সেই মসজিদেও এরা রাজনীতি করার চেষ্টা করছে যা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী। বাইতুল মোকাররম মসজিদসহ দেশের সকল মসজিদে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বন্ধ করতে হবে। আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, ইসলামী ধর্মসভায় হেফাজত ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক কর্তৃক মহানবী (সা:) কে প্রকাশ্য দিবালোকে অবমাননা করা হয়েছে। মহানবী (সা:) কিভাবে ঠোঁট নাড়াতেন এটা তিনি নাকি দেখেছেন এবং হুবহু বলে দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন। ইসলামের দৃষ্টিতে মহানবী (সা:) এর কোন অবয়ব দেখানো সম্পূর্ণ হারাম। ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হক প্রকাশ্য দিবালোকে মহানবী (সা:) এর অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে নবীজীকে অবমাননা করেছেন। দাসীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা বৈধ বলে মন্তব্য করেছেন মামুনুল হক যা ইসলাম ধর্মের সুস্পষ্ট অবমাননা। কারণ নবীজি দাস প্রথা মুক্তির কথা তাঁর জীবদ্দশায় বারবার বলে গেছেন। আরেক ধর্ম ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান আজহারী ওয়াজে নবীজীকে সিক্স প্যাক বলে আখ্যায়িত করেছেন। বিবি খাদিজা (রাঃ) কে কুমারী নয় বলে আখ্যায়িত করে বাজে মন্তব্য করেছেন যা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম। মামুনুল হক ও আজহারী কর্তৃক নবীজী ও নবী পত্নীকে অবমাননা করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। হেফাজতে ইসলামের নিকট প্রশ্ন, আপনারা এখনও পর্যন্ত মামুনুল হক কর্তৃক নবীজির অবমাননা নিয়ে কোন বক্তব্য দেননি কেন? আপনাদের নীরবতাই প্রমাণ করে যে, আপনারা নবীজির অবমাননাকে সমর্থন করেন। ধর্মকে নিয়ে প্রতিনিয়ত ব্যবসা করেন। উইঘুর মুসলিম গণহত্যা-নির্যাতন, পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে মুসলিম হত্যা, সৌদি আরব কর্তৃক ইয়েমেনে মুসলিম গণহত্যা, সৌদি আরবে গৃহকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতন, ইসরায়েলকে সৌদি আরবের সমর্থন, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কর্তৃক বাংলাদেশের মুসলমানদের অবমাননা ইত্যাদি বিষয়ে আপনাদের নীরবতাই প্রমাণ করে আপনারা স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানী অপশক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়। গত এক মাসে দেশে প্রায় ৪০ জন মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীকে বলৎকার করা হয়েছে যার মধ্যে ২ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছেন এবং ইতিমধ্যে একজন শিশু আত্মহত্যা করেছে। খুবই দুঃখের বিষয় এই যে, বলৎকার নিয়ে এখনো পর্যন্ত দেশের আলেমদের কোন মন্তব্য বা প্রতিবাদ আমাদের চোখে পড়েনি। নিজেদেরকে ইসলামিক দল হিসেবে দাবি করা তথাকথিত সংগঠনের নেতারাও বলাৎকারের ঘটনাগুলো নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করেছে। এ থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় এই বলৎকারের সাথে তারাও জড়িত বা সমর্থনদাতা। এরা বলাৎকারের নীরব সমর্থনদাতা। এদের মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচন করতে হবে। মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মুক্তচিন্তা ও বাক-স্বাধীনতা এরা হরণ করেছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, অবিলম্বে এসব ধর্ম ব্যবসায়ীদের মেডিকেল টেস্ট করে দেখা হোক তারা প্রকৃতপক্ষে বলৎকারের সাথে জড়িত আছে কিনা! বলাৎকার নিয়ে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “আমি লূত (আঃ) কে প্রেরণ করেছিলাম। যখন তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা চরম অশ্লীলতা ও নির্লজ্জতার কাজ করছো যা তোমাদের পূর্বে সারা বিশ্বে কেউ কখনো করেনি। তোমরা কামপ্রবৃত্তি পূরণ করার জন্য মেয়েদের কাছে না গিয়ে পুরুষদের কাছে যাচ্ছো। প্রকৃতপক্ষে তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী জাতি।” [সূরা আ’রাফ(৭): ৮০-৮১] এর ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তাআলা ঐ জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।
“অবশেষে আমার (আল্লাহর) আদেশ চলে আসলো, তখন আমি উক্ত জনপদকে ধ্বংস করে দিলাম এবং তাদের উপর স্তরে স্তরে পাথর বর্ষণ করলাম।” [সূরা হুদ(১১): ৮২]
ধর্ম ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, “বলাৎকারের বিরুদ্ধে আপনারা প্রতিবাদ করে প্রমাণ করুন যে, আপনারা সত্যিকার অর্থে বলাৎকারের সঙ্গে জড়িত নন বা সমর্থন করেন না। কেউ অপরাধ করলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে। ওয়াজ মাহফিলে কিছু ধর্ম ব্যবসায়ীদের উস্কানীর কারণে দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এবং লালমনিরহাটে মসজিদের মাইকে গুজব ছড়িয়ে সহিদুন্নবী জুয়েল নামে একজন মুসলিমকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে যা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী। কোন ধর্মই সহিংসতা ও মানুষ হত্যা সমর্থন করে না। ইসলাম শান্তির ধর্ম। একজন মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে যা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী। কিন্তু ধর্ম ব্যবসায়ীরা এই ইসলাম বিরোধী নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে আজও পর্যন্ত কোন বক্তব্য দেয়নি বা প্রতিবাদ করেনি। এরা বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে উগ্র ভাষায় কথা বলা, চেয়ার থেকে লাফ দিয়ে উপরে ওঠা, দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি যেমন- একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরকে প্রকাশ্য মুরগী চোরা বলা, সুপ্রীম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে জুতা পেটা করার হুমকি, অধ্যাপক জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক মুনতাসির মামুনকে হত্যার হুমকি, গণভবন, বঙ্গভবন ও সংসদ ভবন উড়িয়ে দেয়ার হুমকি ও রক্ত গঙ্গায় ভাসিয়ে দেয়ার হুমকি ইত্যাদি প্রমাণ করে ধর্ম ব্যবসায়ীরা কখনই ইসলামের আদর্শ ধারণ করেন না। কারণ ইসলাম কখনই গালমন্দ ও হুমকি সমর্থন করে না। এরা ধর্মীয় লেবাশে প্রকৃতপক্ষে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে সমর্থন ও লালন করে। ধর্ম ব্যবসায়ীদের উগ্র আচরণ দেখে আমাদের মনে হয় যে, তারা মাদকাসক্ত ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত। আমরা অবিলম্বে তাদের ডোপ টেস্ট ও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করার দাবি জানাচ্ছি। ধর্মের নাম ব্যবহার করে এই উগ্রবাদী গোষ্ঠী দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এদের মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে বিশ্বের কাছে ইসলাম ধর্মের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা। প্রত্যেকটি মুসলমানের উচিত নবীজীর অবমাননার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার পাশাপাশি ইসলামের শত্রু ধর্ম ব্যবসায়ীদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করা। এর আগে মৌলবাদী ধর্ম ব্যবসায়ী কর্তৃক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙ্গে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছিল। এই বক্তব্য দেশের সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী। জাতির পিতার ভাস্কর্য অপসারণের দাবি যারা তুলেছে, সেই মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ না নিলে আমরা দেশ ও জাতির ‘সমূহ বিপর্যয়ের’ আশঙ্কা প্রকাশ করছি। আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনে বাধা প্রদান এবং স্থাপিত ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলার ভয়ঙ্কর হুমকি দিয়েছে চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। গত ১৩ নভেম্বর করোনাকালীন যাবতীয় বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে তারা যেভাবে গেণ্ডারিয়ার ধূপখোলার মাঠে সমাবেশ করেছে এবং যে ভাষায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি বিষেদগার করেছে, তা রাষ্ট্রদ্রোহিতাতূল্য অপরাধ হলেও এখন পর্যন্ত এদের বিরুদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। একাত্তরের পরাজিত অপশক্তির দোসররা তৌহিদী জনতার ব্যানারে প্রতিনিয়ত রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্র চলমান রেখেছে। লালমনিরহাটে মানুষ হত্যা, কুমিল্লার মুরাদনগরে হামলার ঘটনা ও সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে ধর্ম ব্যবসায়ীদের অপপ্রচার একই সূত্রে গাঁথা। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, তুরস্কসহ বিশ্বের সকল মুসলিম দেশে শতশত ভাস্কর্য রয়েছে। ভাস্কর্য হচ্ছে একটি দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক বহন করে। ইসলাম কখনোই ভাস্কর্য বিরোধী নয়। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে ভাস্কর্য নিষিদ্ধের বিষয় কোথাও বলা হয়নি। মূর্তি বা ভাস্কর্য মানেই শিরকের উপকরণ নয়। বাঙালি সংস্কৃতি বিজাতীয় সংস্কৃতি নয়, এটি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতিতে যেসব জিনিস শিরক বা আল্লাহর সঙ্গে অংশীবাদিতার মিশ্রণ ছাড়াই পালিত হয়ে আসছে, সেটিকে হঠাৎ করে শিরক সংস্কৃতি বলা নোংরা রাজনীতি ছাড়া কিছুই নয়। বুখারি শরিফের শুরুতেই রয়েছে—বিখ্যাত হাদিস, “ইন্নামাল আমালু বিন্নিয়্যাত (নিয়তের উপর কাজ নির্ভরশীল)”। মূর্তি বা ভাস্কর্য মানেই শিরকের উপকরণ নয়। হযরত আয়শা (রা.)-এর ঘরে ঘোড়ার ছোট মূর্তি রাখা ছিল (সূত্র: বুখারি শরিফ-কিতাবুল আদাব)। কই, রসূল (সা.) তাকে তো নিষেধ করেননি। এই ছোট পুতুল বা মূর্তি পূজার জন্য ছিল না; বরং খেলার জন্য ছিল। তাই রসূল (সা.) নিষেধ করেননি। একইভাবে যেসব ভাস্কর্য সৌন্দর্য্য চর্চা ও রুচিশীলতার পরিচয় বা ঐতিহাসিক কোনও ঘটনার স্মৃতিফলক হিসেবে স্থাপিত হয়, তা ইসলামি শিক্ষানুযায়ী নিষিদ্ধ নয়। ভাস্কর্য, প্রতিমা পূজা, মূর্তি—এক জিনিস নয়। পবিত্র কোরআনের সূরা সাবার ১৩ নম্বর আয়াতে ভাস্কর্য নির্মাণের উল্লেখ করে বলা হয়েছে—“উহারা সুলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী প্রাসাদ, ভাস্কর্যসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত ডেগ নির্মাণ করিতো। আমি বলিয়াছিলাম, হে দাউদ-পরিবার, কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তোমরা কাজ করিতে থাক। আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পই কৃতজ্ঞ।” প্রতিমা পূজার ব্যাপরে পবিত্র কুরআনের সূরা ইব্রামিমের ৩৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে—“স্মরণ কর, ইব্রাহিম বলিয়াছিলেন, হে আমার প্রতিপালক, এই নগরীকে নিরাপদ করিও এবং আমাকে ও আমার পুত্রগণকে প্রতিমা পূজা হইতে দূরে রাখিও।” সূরা সাবার ১৩ নম্বর আয়াতের তামাসিলা (ভাস্কর্য) এবং সূরা ইব্রাহিমের ৩৫ নম্বর আয়াতের আসনাম (প্রতিমা পূজা)—এই দুটি শব্দের অর্থকে বিকৃত করে যারা একই অর্থে মূর্তিকে ভাস্কর্য বানাতে চাচ্ছেন, তাদের বলবো অনুগ্রহ করে কোরআনের শব্দের অর্থকে ভুল ব্যাখ্যা করে মাঠ গরম করার চেষ্টা করবেন না। কারণ এ দেশের মানুষ আপনাদের ‘৭১ সালেও চিনতে ভুল করেনি, এখনও করবে না। ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনার, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে নির্মিত শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এবং সাত জন বীরশ্রেষ্ঠের নামে স্থাপিত স্মৃতি ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে যখন বাংলাদেশের মুসলমানরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, তখন তারা কেউই সেখানে ইবাদতের নিয়তে বা প্রার্থনার নিয়তে যান না। সেখানে জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শহীদদের ত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয় মাত্র। কিন্তু এসব মৌলবাদী অপশক্তিরা ধর্মের দোহাই দিয়ে ভাস্কর্য নিষিদ্ধ বলে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এরা ভাস্কর্য ও মূর্তির পার্থক্যের অপব্যাখ্যা দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। হঠাৎ করে ভাস্কর্য ইস্যুতে ধর্ম ব্যবসায়ীদের সক্রিয় হওয়ার পিছনে একটি উদ্দেশ্যে রয়েছে। এদের মূল উদ্দেশ্যে ভাস্কর্য নয়, জনগণের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে সরকার পতনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। এখন মানুষ অনেক সচেতন। এদের প্রকৃত চরিত্র ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়েছে। সামনে আরোও হবে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। সেই ইসলাম ধর্মের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে ধর্ম ব্যবসায়ী ফয়জুল-মামুনুল গংরা। এরা প্রকৃতপক্ষে ইসলামের শত্রু, মানবতার শত্রু। ধর্মীয় সভাগুলোতে মামুনুল-ফয়জুল গংরা অন্যধর্মের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত উস্কানিমূলক অপপ্রচার চালিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। পবিত্র মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোতে এরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছে যা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী। এহেন ইসলাম ধর্ম বিরোধী কর্মকাণ্ড কখনোই বরদাশত করবে না মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। নবীজীর অবমাননাকারী ধর্মীয় উগ্রবাদীদের শক্ত হাতে দমন করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী দণ্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে চাঁদে দেখা যাচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়ে যারা নাশকতা করে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছিলো সেই মৌলবাদী অপশক্তিই সম্প্রতি ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এরা ইসলামের শত্রু। এরা কখনোই ইসলাম ধর্মের আদর্শ ধারণ করে না। ধর্মীয় লেবাশে রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্র করাই এদের মূল উদ্দেশ্য। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে এরা জঙ্গিবাদ রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এরা ইসলাম, দেশ ও জাতির শত্রু। একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের দোসররা এহেন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড দ্বারা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ধর্মের নামে এরা অপরাজনীতি শুরু করেছে। ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের আবেগকে পুঁজি করে নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্যে হাসিলের চেষ্টা করছে। আমরা লক্ষ্য করছি, করোনা সংকটেও কিছু ধর্মীয় লেবাশধারী ওয়াজ বক্তা দেশে করোনা নেই বলে প্রতিনিয়ত গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষদের জীবনকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দেশের মাদ্রাসাগুলোতে যৌন নিপীড়ন বন্ধে নজরদারী বাড়ানোর পাশাপাশি ধর্ষণের ন্যায় বলাৎকারের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। বিভিন্ন ধর্মীয় সভায় ওয়াজের নামে গুজব ছড়ানো ও উস্কানিমূলক অপপ্রচার বন্ধ করার জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দেশের অনেক মাদ্রাসায় জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় না, জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয় না, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ানো হয়না যা দেশের সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংবিধান বিরোধী এসব কর্মকাণ্ডই ধর্মীয় উগ্রবাদকে আরোও উসকে দিচ্ছে। মাদ্রাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা বাধ্যতামূলক করতে হবে। অন্যথায় দেশপ্রেম ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। দেশের সকল মাদ্রাসায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে খুব শীঘ্রই মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কমিটি গঠন শুরু করবে। বাংলাদেশে রাজনীতি করতে চাইলে হেফাজত ইসলামসহ সকল রাজনৈতিক দলকে কে অবশ্যই বঙ্গবন্ধু কে জাতির পিতা হিসেবে মেনে নিয়ে রাজনীতি করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করতে হবে। অন্যথায় এদেশে তাদের রাজনীতি করার কোন নৈতিক অধিকার নেই। পবিত্র মসজিদ হচ্ছে মুসলিমদের জন্য ইবাদতের স্থান। কিন্তু সেই মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। অবিলম্বে ধর্ম ব্যবসায়ীদের এসব অপকর্ম বন্ধ করতে হবে। ইবাদত ও ধর্মীয় শিক্ষা লাভের জায়গাগুলো অপব্যবহার করে ধর্ম ব্যবসায়ীরা ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। মহানবী (স:) কে অবমাননা করে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অপরাধে মামুনুল হককে এখনো পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল-ফয়জুল গংদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সমগ্র দেশে আরোও কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।”
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের (৭) সাত দফা দাবি:
ধর্ষণের ন্যায় বলাৎকারের অপরাধে অভিযুক্ত ও বলৎকারের সমর্থনদাতাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।
মহানবী (সা:) কে অবমাননাকারী ও বলৎকারের সমর্থনদাতা মামুনুল হক গংদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশে অবিলম্বে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।
বিভিন্ন ধর্মীয় সভা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় উস্কানিমূলক গুজব ছড়ানো ও অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননাকারীদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জেলা, উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ভার্স্কয নির্মাণ করতে হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নিপীড়ন বন্ধে মনিটরিং সেল গঠন করে নজরদারি বাড়াতে হবে।
সকল মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাতীয় সংগীত বাজানো, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনার নির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানো বাধ্যতামূলক করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।