• ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উগ্রবাদ ও অপসংস্কৃতি রুখতে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের আহ্বান সংস্কৃতি মন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ৩১, ২০২৬
নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উগ্রবাদ ও অপসংস্কৃতি রুখতে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের আহ্বান সংস্কৃতি মন্ত্রীর

অপসংস্কৃতি, উগ্রবাদ আর সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে কঠোরভাবে প্রতিহত করতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বুকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে নজরুল চেতনাকে ধারণ করে আমাদের নতুন করে একটি সাংস্কৃতিক লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

আজ সকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্কে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে দেশব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বর্ণাঢ্য উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত ২৩শে মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রিশালে নজরুল জয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ২৫শে মে, ২০২৬ থেকে ২৫শে মে, ২০২৭ পর্যন্ত সময়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা প্রধানমন্ত্রীর এই যুগান্তকারী ঘোষণা ও আবেগকে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং দেশব্যাপী এই সাংস্কৃতিক জয়যাত্রায় শামিল হয়েছেন। উদ্বোধনী মঞ্চে মন্ত্রী কবির কালজয়ী ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কয়েক চরণ অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে আবৃত্তি করেন এবং নজরুলকে এক বিস্ময়কর প্রতিভা হিসেবে অভিহিত করেন।

শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের মনস্তত্ত্বে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদী চেতনা সঠিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি কেবল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নয়, বরং প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও সংস্থাকে একসঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জোরালো আহ্বান জানান।

জাতীয় কবির সৃষ্টি ও কর্মকে চিরজাগরুক রাখার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী অবদানের কথা স্মরণ করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে কবির নামে ‘নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপন করে নজরুল চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই কাজী নজরুল ইসলামকে স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে এসে ‘জাতীয় কবি’-র সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রদান করেন এবং তাঁর গবেষণা ও সৃষ্টিকে অমর করতে ‘নজরুল ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
মন্ত্রী বিগত ফ্যাসীবাদী আমলের তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ ২২-২৩ বছর ধরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে আড়াল করার এক হীন ও পরিকল্পিত অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। এই আড়াল সংস্কৃতির কারণে তরুণদের সৃজনশীলতার বিকাশ থমকে গিয়েছিল এবং জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তখনকার রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তরুণদের হাতে মাদকের মতো মরণব্যাধি তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা আমাদের গোটা যুবসমাজকে ধ্বংসের একদম দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছিল। এ প্রসঙ্গে একটি ঐতিহাসিক প্রবাদ স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “লোকালয়ে আগুন লাগলে দেবালয় রক্ষা পায় না।” অর্থাৎ সমাজ ধ্বংস হলে কেউ নিরাপদ থাকতে পারে না।
ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের হাত ধরে দেশে আজ এক নতুন ও স্বৈরাচারমুক্ত সূর্যের উদয় হয়েছে। অপার সম্ভাবনার এই বাংলাদেশে বর্তমানে পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে যে অভূতপূর্ব মেলবন্ধন ও জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা দেশের বুক থেকে যেকোনো ধরনের সাম্প্রদায়িকতা, অপসংস্কৃতি আর উগ্রবাদ চিরতরে প্রতিহত করার জন্য যথেষ্ট।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা বলেন, জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি, দর্শন ও সাহিত্যকর্মকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই ধরনের সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমেই তরুণদের ভেতরের সুপ্ত সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটবে এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা নতুন প্রতিভার অন্বেষণ সম্ভব হবে।

ঢাকার জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান মিঞা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল এবং জাসাসের জাতীয় নির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক হেলাল খান। বক্তারা দেশব্যাপী এই সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাকে সফল করতে তৃণমূল পর্যায়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930