রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ মহোদয়ের নির্দেশনায় এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান মহোদয়ের সভাপতিত্বে অদ্য ০৮ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার সকাল ৯:০০ ঘটিকায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কনফারেন্স হল রুমে সিটিএসবিতে কর্মরত অফিসার ও ফোর্সদের অংশগ্রহণে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতি মহোদয় উপস্থিত কর্মকর্তাদের নিকট থেকে মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডভিত্তিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনা করেন এবং তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রতিটি ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লাভিত্তিক অপরাধপ্রবণ ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা প্রদান করেন। বিশেষ করে চোর, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, ভবঘুরে এবং সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী বিভিন্ন অপরাধচক্রের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানান।
সভায় নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসমূহের সাংগঠনিক কার্যক্রম, সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সদস্যদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংগঠনকে যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক অবৈধ কর্মকাণ্ড, আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা বা অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিয়ে সহায়তা করলে তাদের তথ্য সংগ্রহ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
উপ-পুলিশ কমিশনার মহোদয় প্রতিটি থানার আওতাধীন এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, যেকোনো ঘটনার ক্ষেত্রে তারিখ, সময়, স্থান, ভুক্তভোগীর পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃতি সম্পর্কে শতভাগ নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত করতে হবে। হাজীরহাট থানা এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ বৃদ্ধি পাওয়ায় এর কারণ, সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় তিনি উল্লেখ করেন, সিটিএসবি’র তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক, নির্ভুল ও আগাম তথ্যই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং কার্যকর আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার প্রধান ভিত্তি। তিনি সিটিএসবি’র প্রতিটি সদস্যকে অধিকতর সতর্কতা, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের যোগদানের পর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জননিরাপত্তা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। মেডিকেল ও অ্যাম্বুলেন্স দালালচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা প্রতিরোধ, অবৈধ দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার ক্ষেত্রে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। এসব সফল অভিযানের পেছনে সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সভায় অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
পরিশেষে, পেশাগত দক্ষতা, নিষ্ঠা ও তথ্যভিত্তিক সফল কার্যক্রম পরিচালনাকারী কর্মকর্তা ও সদস্যদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা প্রদান করে সভাপতি মহোদয় সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।