অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর এ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হচ্ছে। নাটক, বিজ্ঞাপন, ডিজিটাল মিডিয়া, এমনকী এসময়ের ওটিটিতে জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী ১৫ বছর ধরে করছেন অভিনয়। এর মধ্যে একাধিকবার সিনেমায় অভিনয়ের কথা শোনা গেলেও রুপালি পর্দায় দেখা যায়নি তাকে। শেষমেশ ২০২৪-এ বড় পর্দায় আসছেন মেহজাবীন। আর যখন আসছেন, তখন একদম নাম ভূমিকায়; প্রিয় মালতী’ সিনেমার মালতী হয়ে আসছেন তিনি। ‘বড় পর্দায় কবে আসছেন মেহজাবীন?’ এই প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া থেকে মুক্তি পেলেন অভিনেত্রী।
আর যার নির্দেশনায় বড় পর্দায় ফিরছেন মেহজাবীন, তিনিও নির্মাণে বহুদিন। বিজ্ঞাপন তো বটেই, হালে ওয়েব সিরিজ নির্মাণেও নাম কামিয়েছেন এ নির্মাতা। তিনি শঙ্খ দাশগুপ্ত। ‘প্রিয় মালতী’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে বড় পর্দায় অভিষিক্ত হচ্ছেন তিনিও। অভিনেত্রী, পরিচালক ছাড়াও ফিচার ফিল্মের প্রযোজক হিসেবে অভিষিক্ত হচ্ছেন নির্মাতা-প্রযোজক আদনান আল রাজীব। নির্মাতা হিসেবেই অধিক পরিচিত তিনি। তবে প্রযোজনাতেও সিদ্ধহস্ত রাজীব। এর আগে অনেকগুলো ওটিটি কনটেন্ট প্রযোজনা করেছেন তিনি।
‘প্রিয় মালতী’ সিনেমাটি মুক্তি উপলক্ষে ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর অল কমিউনিটি ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয় সংবাদ সম্মেলনের। আয়োজনের চমক হিসেবে ছিল বড় পর্দায় অভিষিক্ত হতে যাওয়া অভিনেত্রী মেহজাবীর চৌধুরীর সঞ্চালনা। মূল আয়াজনটি তিনি নিজেই পরিচালনা করেন। দেন স্বাগত বক্তব্য, আলোচনার মাধ্যমে সিনেমাটির নানা দিক তুলে আনেন অভিনেত্রী, জানান নিজের সম্পর্কেও।
আয়োজনে মেহজাবীন মঞ্চে ডেকে নেন নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্ত, প্রযোজক আদনান আল রাজীব, অন্যতম প্রযোজক রেদওয়ান রনি, অভিনেতা আজাদ আবুল কালাম, শাহজাহান সম্রাট, নাদের চৌধুরী, শহীদুল আলম সাচ্চুকে। আয়োজনে মেহজাবীনের প্রশ্ন ও অতিথিদের আলোচনার পর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় মেহজাবীনকেও। এবার প্রশ্নকর্তা হন প্রযোজক আদনান আল রাজীব। চরিত্র অনুযায়ী মেহজাবীন নিজেকে কীভাবে পরিবর্তন করেন, সেটা জানতে চান প্রযোজক। এরপর হয় সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্ব।
সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে ফ্রেম পার সেকেন্ড ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি। ২০২৩ সালের ১৯ এপ্রিল আসে সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ঢাকা-বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হয় সিনেমাটির শুটিং। সব কাজ শেষ করে সিনেমাটির মুক্তির ঘোষণা আসে এ বছর ৫ ডিসেম্বর সকাল ১১টায়। এর পর ১৩ ডিসেম্বর হয় মুক্তির তারিখ ঘোষণা এবং ১৪ ডিসেম্বর আসে সিনেমাটির ট্রেইলার।
‘প্রিয় মালতী’ যাপিত জীবনের গল্প। সিনেমায় নিম্ন-মধ্যবিত্ত লড়াকু নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেহজাবীন চৌধুরী। এতে আরও অভিনয় করেছেন নাদের চৌধুরী, আজাদ আবুল কালাম, শাহজাহান সম্রাট, রিজভী রিজুসহ অনেকে। সিনেমায় মেহজাবীনের নাম মালতী রানী দাশ। পলাশ কুমার দাশের সঙ্গে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন তিনি। দশটা নিম্ন-মধ্যবিত্ত দম্পতির মতো সংসার জীবনের ছোট ছোট স্বপ্ন বুনছিলেন তারা। বিয়ে বার্ষিকী উপলক্ষে নৌকাতে ভাসতে ভাসতে কেক কাটা, সন্ধ্যায় একটু ঘোরাঘুরি, মালতীকে অবাক করে দিয়ে পলাশের উপহার দেয়া, স্বামী-স্ত্রীর খুনসুটি- সবকিছুই চলছিল সুন্দর ছন্দে। হঠাৎই একটি মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনায় সেই ছন্দ কাটে।
‘প্রিয় মালতী’ সিনেমার গল্পকার ও চিত্রনাট্যকার শঙ্খ দাশগুপ্ত জানান, সিনেমায় মালতী চরিত্রটি সংগ্রামের। সামাজিক, অর্থনৈতিক, মানসিক সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় চরিত্রটিকে। দেশের অনেক নারীর জীবনেই এমন ঘটনা আছে। জীবন সংগ্রামের পাশাপাশি প্রচলিত কিছু নিয়মকেও প্রশ্ন করেছেন পরিচালক।
সিনেমার গল্পটি সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত। সত্য যেমন কঠিন, সিনেমার বিভিন্ন মুহূর্তও তেমন কঠিন ও সমস্যার। মালতীর সমস্যা-সংগ্রামগুলো শুধু তার একার না, এগুলো দেশর মানুষের সমস্যা-সংগ্রাম। মালতী চরিত্রটি একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর। বিশৃঙ্খল এই শহরে তার লড়াই করতে হয় শ্বশুরবাড়ি, সমাজ এবং ধর্মীয় রীতিনীতির বিরুদ্ধে। এর পাশপাশি আমি প্রশ্ন করতে চেয়েছি, একজন মানুষের অস্তিস্ব কি ডেথ সার্টিফিকেট ও ময়না-তদন্ত রিপোর্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে? সিনেমায় প্রসঙ্গগুলো আছে বলে জানান পরিচালক।
প্রযোজক আদনান আল রাজীব জানান, যারা সিনেমাটি দখবেন, তারা একটা অনুভূতি নিয়ে বের হবেন। যারা গল্পের সিনেমা পছন্দ করেন, অনেকদিন প্রেক্ষাগৃহে আসেন না, তাদের সিনেমাটি ভালো লাগবে বলে মনে করেন তিনি।
এরই মধ্যে সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়েছে কায়রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এবং ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ ইন্ডিয়াতে। মর্যাদাপূর্ণ দুই উৎসবেই অফিসিয়ালি সিলেক্ট হওয়া ‘প্রিয় মালতী’ পেয়েছে ব্যাপক প্রশংসা। একদম দেশিয় প্রেক্ষাপটে বানানো সিনেমাটি সহজেই বুঝতে পেরেছেন বিদেশি দর্শক।