বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর সভাপতি এস এম মান্নান (কচি) এর নেতৃত্বে বিজিএমইএ এর একটি প্রতিনিধিদল ০৭ মে ২০২৪ বানিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি এর সাথে তার সচিবালয়স্থ কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। ।
প্রতিনিধিদলে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মোঃ নাসির উদ্দিন, সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ হিল রাকিব, পরিচালক মোঃ ইমরানুর রহমান, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল সাদাত, পরিচালক মোঃ আশিকুর রহমান (তুহিন), পরিচালক শামস মাহমুদ, পরিচালক মোঃ নুরুল ইসলাম, পরিচালক সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী সাগর এবং পরিচালক মোঃ রেজাউল আলম (মিরু)।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, তীব্র ভূ-রাজনৈতিক সংকট এবং এর প্রভাবে বৈশ্বিক বানিজ্যে সৃষ্ট অস্থিরতার প্রভাবে পোশাক শিল্প এক সন্ধিক্ষনে রয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে ভোক্তাদের পোশাকের চাহিদা ও পোশাকের উপর ব্যয় কমেছে। এর বিপরীতে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে সৃষ্ট বিভিন্ন কারণে শিল্পের ব্যয় বহুগুন বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে শিল্পকে টেকসই করতে ও রপ্তানির প্রবৃদ্ধির গতি অব্যাহত রাখতে নীতি সহায়তা প্রদান অত্যন্ত জরুরি এবং সেইসাথে ব্যবসায় সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াগুলোকে আরও দ্রুততর এবং সহজতর করা, -বিশেষ করে আমদানিকৃত কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি দ্রুত খালাসসহ ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াগুলো সহজীকরণ করাও অত্যাবশ্যক।
তিনি বলেন, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ যত সহায়ক হবে, রপ্তানি খাতে তত বেশি সাফল্য আসবে এবং অর্থনীতি এর সুফল লাভ করবে।
বিজিএমইএ সভাপতি শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখার জন্য রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সহায়ক রাজস্ব নীতিমালা, শিল্পে নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের উপর জোর দেন।
বৈঠকে এলডিসি পরবর্তী সময়ে পোশাকখাতের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়।
এস এম মান্নান (কচি) বলেন, “স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরনের ফলে ২০২৬ সালের পর থেকে বিভিন্ন বানিজ্য সুবিধা আর থাকবে না। তাই অন্তত ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে আমরা যদি বিভিন্ন নীতি সহায়তার মাধ্যমে সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারি, সেটি হবে আমাদের জন্য সময়োপযোগী কৌশল।”
তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পোশাক শ্রমিকদের জন্য ফুড রেশনিং চালু করার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহনের জন্যও বানিজ্য প্রতিমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান।
বিজিএমইএ সভাপতি সার্বিকভাবে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ধারা সুরক্ষিত রাখতে তৈরি পোশাক খাতের সুরক্ষা এবং রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রগুলোতে আরও বেশী গুরুত্ব প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।