• ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৭ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

পশুরোগ নিয়ন্ত্রণে সার্ক দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ৩১, ২০২৬
পশুরোগ নিয়ন্ত্রণে সার্ক দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগ

দক্ষিণ এশিয়ায় পশুরোগ নজরদারি, রোগ নির্ণয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরি ব্যবস্থার উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সার্ক ল্যাবরেটরি ডিরেক্টরস ফোরাম (এসএলডিএফ)-এর ষষ্ঠ সভা। শুক্রবার (৩১ জুলাই) অনুষ্ঠিত এ সভায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরির পরিচালক, বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সার্ক সচিবালয় এবং শ্রীলঙ্কার প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে সভার আয়োজন করে। এর আগে ফোরামের পঞ্চম সভা ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে শ্রীলঙ্কার প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক ড. বি.এস.এস. পেরেরা বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরি ব্যবস্থা অপরিহার্য। উদীয়মান ও সীমান্ত অতিক্রমকারী পশুরোগ মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের (এসএসি) সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (লাইভস্টক) ড. মো. ইউনূস আলী বলেন, সার্ক ল্যাবরেটরি ডিরেক্টরস ফোরাম সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আঞ্চলিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তিনি রোগ নির্ণয়ের মানদণ্ডের সামঞ্জস্যতা, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা জোরদার এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সার্ক সচিবালয়ের পক্ষে বক্তব্য দেন কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সার্ক ডেভেলপমেন্ট ফান্ড বিভাগের পরিচালক তানভীর আহমেদ তরফদার। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো অভিন্ন প্রাণিসম্পদজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় এবং শক্তিশালী ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফোরামের চেয়ারম্যান এবং নেপালের প্রতিনিধি ড. বরুণ শর্মা সভার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি সদস্য দেশগুলোর জাতীয় ল্যাবরেটরিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে রোগ নির্ণয় সক্ষমতা, জৈবঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় পূর্ববর্তী এসএলডিএফ এবং সার্ক চিফ ভেটেরিনারি অফিসার্স ফোরামের সুপারিশসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি ল্যাবরেটরি পরিচালকদের সক্ষমতা উন্নয়ন ও নেটওয়ার্কিং কাঠামো, আঞ্চলিক কারিগরি উপদেষ্টা গ্রুপের (ল্যাব-ট্যাগ) খসড়া কার্যপরিধি এবং সদস্য দেশগুলোর ল্যাবরেটরি সক্ষমতা, রোগ নির্ণয়, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও জৈবঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দেশভিত্তিক উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়।

এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরি ব্যবস্থার উন্নয়নে আঞ্চলিক অগ্রাধিকার, উদীয়মান চ্যালেঞ্জ, ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্কিং, রোগ নির্ণয়ের মানদণ্ডের সামঞ্জস্যতা, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা ও খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্বের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
দিনব্যাপী আলোচনা শেষে আঞ্চলিক ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরি সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং পশুরোগ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সুপারিশমালা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।