বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক ডেনিম প্রদর্শনীগুলির একটি ‘বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো’, যার অন্যতম লক্ষ্য বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে বিশ্বের কাছে তুলা ধরা ও ডেনিম শিল্পের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, উদ্ভাবন এবং ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে এ শিল্পকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার প্রয়াসে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো’ এর ১৬তম আসর।
৬ ও ৭ মে ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরাতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজক বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ সহ ১১টি দেশের ৬০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান ডেনিম শিল্পে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, বৈচিত্রময় ও উদ্ভাবনী ডেনিম পণ্য প্রদর্শনের করেছে।
বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোতে পণ্য প্রদর্শনীর পাশাপাশি দুই দিনে চারটি আলোচনা সভা ও দুইটি ‘ট্রেন্ড সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে ডেনিম শিল্প সংশিষ্ট আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞগণ তাদের মতামত তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডেসের রাষ্ট্রদূত মিস্ ইরমা ভন দুরিন, বিজিএমইএ এর সাবেক সভাপতি মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, বিজিএমইএ এর বর্তমান সভাপতি এস. এম. মান্নান (কচি), বিজিএমইএ এর সহ-সভাপতি এবং টিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ হিল রাকিব, এবং এইচএন্ডএমের আঞ্চলিক প্রধান (বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইথিওপিয়া) জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠান সঞ্চলানা করেন ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিজিএমইএ এর পরিচালক মোঃ মহিউদ্দিন রুবেল।
বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, এমপি বলেন, “একটি নিরাপদ এবং কমপ্লায়েন্ট পোশাক সরবরাহকারী হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নিতে এবং ন্যায্য মূল্য দিতে আমি ক্রেতাদেরকে অনুরোধ করছি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পোশাক শিল্প একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত। আমি নিশ্চিত যে, তৈরি পোশাক শিল্পের অবদানে বাংলাদেশ খুব শীঘ্রই একটি উন্নত দেশে উন্নীত হবে।”
বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডেসের রাষ্ট্রদূত মিস্ ইরমা ভন দুরিন বলেন, “অর্থনৈতিক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই অর্জনে পোশাক শিল্পের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পোশাক খাতের উন্নয়নে আগামী বছরগুলিতে আমাদেরকে সর্বত্র সাসটেইনিবিলিটি এবং সার্কুলার চর্চার উপর আরও বেশি গুরুত্ব ও মনোনিবেশ করতে হবে।”
বিজিএমইএ এর সাবেক সভাপতি মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “আমরা এখন যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি, আমি গর্বের সাথে বলতে পারি যে এর বেশিরভাগেই পোশাক খাতের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে, সরকারের সহায়তায় তৈরি পোশাক শিল্প আরও এগিয়ে যাবে।”
বিজিএমইএ এর সভাপতি এস. এম. মান্নান (কচি) বলেন, “আমরা এখন পোশাক শিল্পে অটোমেশনকে অন্তর্ভুক্ত করছি এবং বিশ্ব বাজারে আমাদের শেয়ার বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা ব্যবসাকে টেকসই করার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি মূল্য সংযোজন করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।”
বিজিএমইএ এর সহ-সভাপতি এবং টিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ হিল রাকিব বলেন, “ডেনিম এক্সপো সবসময় পণ্য, উপকরণ এবং সর্বোপরি শিল্পের কি চাহিদা সেটি ভালোভাবে অনুধাবন করে থাকে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সহযোগিতায় সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমরা শিল্পে টেকসই অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হবো।”
এইচএন্ডএমের আঞ্চলিক প্রধান (বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইথিওপিয়া) জিয়াউর রহমান, বলেন, “সার্কুলারিটি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে আমাদের সত্যিই অনেক কাজ করতে হবে। এখানে অনেক সুযোগ রয়েছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বচ্ছতা। আমরা যদি এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে চাই তবে আমাদেরকে দক্ষতার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উদ্ভাবন এবং সাসটেইনিবিলিটির দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।”
বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পেছনে একটি অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো শিল্পের প্রসার ও উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।”