গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি আজ (শুক্রবার) বিকেলে কুমিল্লার মনোহরপুরে অবস্থিত ৩২৪ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক ‘শ্রী শ্রী রাজ রাজেশ্বরী কালী মাতার মন্দির’ পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে মন্দির প্রাঙ্গণে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও সুধীজনদের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন মাননীয় মন্ত্রী।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “১৭০২ সালে ত্রিপুরার মহারাজা দ্বিতীয় রত্নমাণিক্য বাহাদুর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী রাজ রাজেশ্বরী কালী মন্দিরটি আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন। শতবর্ষী প্রাচীন এই মন্দিরটি স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাসনালয়। বর্তমান সরকার দেশের সকল ধর্মীয় উপাসনালয় এবং ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ সংরক্ষণ ও সংস্কারে অত্যন্ত আন্তরিক। এই ঐতিহাসিক মন্দিরের প্রাচীন গৌরব ও ঐতিহ্য রক্ষায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মো: মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে কুমিল্লার গৌরবময় ঐতিহাসিক ঐতিহ্য এবং যুগ যুগ ধরে চলে আসা সকল ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা উল্লেখ করেন এবং মন্দিরের সার্বিক উন্নয়নে পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস ব্যক্ত করেন।
সংবর্ধনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মিজ্ সাবিনা আলম এবং কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মিজ্ রোজী আকতার। এছাড়াও স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ, মন্দির পরিচালনা কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ এবং এলাকার সর্বস্তরের গণ্যমান্য সুধীজন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী মহোদয় ও সংসদ সদস্য মহোদয় মন্দিরে এসে পৌঁছালে পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে তাঁদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সংবর্ধনা জানানো হয়। মন্ত্রী মহোদয় মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং এর ঐতিহাসিক পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।