ত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অনন্য শিক্ষা নিয়ে সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে সকাল থেকেই ছিল মুসল্লিদের উপচে পড়া ঢল।
ঈদের নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানিতে অংশ নিচ্ছেন। কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের প্রিয় বস্তু ত্যাগের মহান আদর্শই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে এই পবিত্র দিনটি। ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। তাঁর সেই অসীম আনুগত্য ও ত্যাগের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই মুসলিম উম্মাহর জন্য কোরবানির এই বিধান চালু হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বস্তরের মানুষের সাথে এই প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ। পবিত্র এই উৎসবকে ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে কঠোর ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। বাণীতে তাঁরা ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
ঈদ উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিওগুলোতে সম্প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ ও আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানমালা। পাশাপাশি আনন্দঘন এই দিনে হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশু সদনগুলোতে উন্নতমানের বিশেষ খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশজুড়ে চলছে টানা ছুটির আমেজ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, গত ২৫ মে শুরু হওয়া এই সরকারি ছুটি আগামী ৩১ মে পর্যন্ত চলবে।