কেয়ার বাংলাদেশের সাথে সূর্যমুখী চাষ ও বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন
দি হংকং এন্ড সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ এবং কেয়ার বাংলাদেশ যৌথভাবে “সূর্যমণি- প্রকৃতিভিত্তিক ও বাজারমুখী অভিযোজনের দ্বীপ্ত যাত্রা” নামক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলার কৃষক সম্প্রদায়ের কল্যাণে সূর্যমুখী চাষভিত্তিক এই শক্তিশালী ভ্যালু চেইন গড়ে। তোলা এবং অভিযোজনযোগ্য সবজি চাষকে উৎসাহ দেয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
এই প্রকল্পটি ক্ষুদ্র কৃষকদের প্রধান কৃষি সমস্যা মোকাবেলায় সহায়তা করে। মাটির লবণাক্ততা, আর্থিক সেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার, মানসম্পন্ন কৃষি উপকরণের অভাব এবং অভিযোজিত চাষাবাদ কৌশলের ঘাটতি এই -এলাকার কৃষকদের চাষে প্রধান বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাতক্ষীরা জেলার অত্যন্ত জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু কৃষি। | সমৃদ্ধ অঞ্চল কালারোয়া এবং তালা উপজেলা, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে,। । লবণাক্ততার কারণে এই এলাকার ২৬,০০০ হেক্টরেরও বেশি পতিত জমি অব্যবহৃত রয়েছে। সূর্যমণি, | লবণাক্ততা-সহনশীল সূর্যমুখী জাতের চাষাবাদ প্রচার, সূর্যমুখী বীজের সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিতকরণ এবং ভোজ্য । তেল উৎপাদনের জন্য স্থানীয় ও জাতীয় ভ্যালু চেইন বৃদ্ধির মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জকে একটি সুযোগে পরিণত। । করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
২০২৪ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায়, সূর্যমণি ইতোমধ্যে ৬০০টিরও বেশি পরিবারকে জলবায়ু-বান্ধব কৃষি পদ্ধতি গ্রহণে সহায়তা করেছে। প্রথম বছরে, প্রায় ১০০ জন কৃষক অন্তত ২৭ একর পতিত মৌসুমী জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে প্রায় ২৫ মেট্রিক টন সূর্যমুখী উৎপাদন করেছেন, যাতে চিরাচরিত সরিষা চাষের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি লাভ হয়েছে।
সাতক্ষীরার তারলিয়া গ্রামের মো. আব্দুল মতি জানান, “গত ১৩ বছর ধরে, আম বাগানের কাছে আমার জমি লবণাক্ততা এবং সেচের অভাবে অনুৎপাদনশীল এবং মৌসুমিভাবে পতিত হয়ে ছিল। সূর্যমণি প্রকল্পের সহায়তায়, আমি এক বিঘা (৩৩ দশক) জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি এবং আশাতীত ভালে ভালো ফলন এবং লাভপেয়েছি, যা আমার কৃষি কার্যক্রম সম্প্রসারণে সাহায্য করবে। এই সাফল্য কেবল আমার কৃষি কার্যক্রম সম্প্রসারণে সাহায্য করেনি, বরং অন্যান্য কৃষকরাও এখন সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছে।”
কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস বলেন, “সূর্যমণি প্রকল্প দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষকদের। জলবায়ু সহনশীল চাষাবাদে সক্ষম করে তোলা, বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো এবং টেকসই ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রকল্পটি স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করবে। জলবায়ু অভিযোজনের জন্য কেয়ার বাংলাদেশ এবং এইচএসবিসি বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করছে, এই লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি ভবিষ্যতের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করে যা আমাদের ক্ষুদ্র সম্প্রদায় গুলোর মতায়নে সহয়তা করে, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করে এবং ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে টেকসই জীবিকা প্রসার করতে সহায়তা করে।”
এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, “এইচএসবিসিতে আমরা বিশ্বাস করি। সমাজে অন্তর্ভুক্তি ও সহনশীলতা গড়ে তোলা আমাদের ফিলানথ্রপিক কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য যা সমাজে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব রাখতে সাহায্য করে। কেয়ার বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে, সূর্যমণি প্রকল্প স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি সমাধানের মাধ্যমে কৃষকদের মতায়ন করবে। আজকের টেকসই অনুশীলনগুলিকে উৎসাহিত করে, আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ এবং সমৃদ্ধ।একটি ভবিষ্যত গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।”