রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত সেই বাড়িটি যেটা জাদুঘর হিসেব পরিচিত।ধানমন্ডির বাড়িটির পাশে সংলগ্ন সড়ক ও আশেপাশের এলাকা দখলে নিয়ে রেখেছে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র-জনতা।এদিকে আবার তাদের আন্দোলনকে একাত্মতা ঘোষণা করে মাঠে নেমেছে শক্ত অবস্থান নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াত।সরেজমিনে ঘুরে দেখলাম।ধানমন্ডি ৩২ এর ঠিক উল্টো রাস্তার ঐ পাড়ে স্কয়ার হসপিটাল,বিআরবি কেবল হাসপাতাল,শমরিতা হাসপাতাল,কলাবাগান,বাস কাউন্টার এর সামনে তারা শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলেছে।এসময় তাদের হাতে লাঠিসোটা হাতে নিয়ে দেখা যায়।তারা কাউকে সন্দেহজনক লাগলে তাদের মোবাইল ফোন চেক সহ আইডিকার্ড সহ সবকিছু চেক করতে দেখা যায়।এ সময় আমার গলায় কার্ড প্রর্দশন না করে ভুলবশত আমার আইডি কার্ডটি পকেটে রেখে দেয়।আমি যখন সংবাদ সংগ্রহের কাজ করি তখন এক লোক আমাকে জিজ্ঞেস করে আপনি কে?আমি উত্তরে বললাম আমি সংবাদকর্মী।তখন আমাকে আইডি দেখাতে বলে আমি আইডি দেখালাম।তখন আমি উনাকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি কে আপনার পরিচয়টা দেন?উনি উত্তর না দিয়ে আমার উপর ক্ষেপে গেল। এসময় তিন-চারজন আমাকে ঘিরে ধরল এবং বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে যায় আমার সাথে।তখন আমি বললাম আপনি আমার পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন তখন শেষে উনি উত্তরে বলে আমি ছাত্রদের সাথে আন্দোলনে আছি।তখন তিনি বলে আওয়ামীলীগ এর অনেক চামচা সাংবাদিক আছে।তারা উল্টোপাল্টা নিউজ করে।পরে বুঝলাম উনি বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী।পরে এক ছাত্র আমাকে অনুরোধ করে ভাইয়া থাক উনার সাথে কথা বলার দরকার নেই। তারপর আমি আর কথা বললাম না।আমি আমার কাজ করতে থাকলাম।
বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৭টায় উপস্থিত হয়ে এমন চিত্র দেখি। এ সময় বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাড়ির সামনে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।কাউকে শ্রদ্ধা জানাতে দেয়নি সকাল থেকে।এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুপর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এই অবস্থাই ছিল ধানমন্ডি ৩২ ছাত্ররা কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না।বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা ৩২ এর সামনে থেকে আশেপাশের মার্কেটগুলোর সামনে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।যাতে আওয়ামীলীগের কোন কর্মী সমর্থক ৩২ এ প্রবেশ করতে না পারে।
কলাবাগান,শুক্রাবাদ মোড় থেকে ৩২ নম্বর ও মেট্রো শপিং মলের সামনে অবস্থান নিয়ে আছেন আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা।তারা একটু পর পর মিছিল নিয়ে বের হচ্ছে, ধানমন্ডি ২৭ ঘুরে আবার ৩২ এসে জড়ো হচ্ছেন অনেকে। আবার ধানমন্ডি ৩২ লেক পাড়ও ছাত্রদের দখলে রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের হাতে লাঠি ও পাইপ এবং কিছু পাঞ্জাবি পড়া জামায়াতের কর্মীদের হাতে দেখলাম থাইল্যান্ড এর ষ্টীলের স্টিক গুলো যা পুলিশ এবং সেনাবাহিনীরা ব্যবহার করে।
সেনাবাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাস্তায় কিছুক্ষণ পরে পরে কয়েকটা গাড়ি দেখা যাচ্ছে টইলরত অবস্থায়।সেনাবাহিনীর সদস্যরা ৩২ নম্বরের ভিতরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন। এছাড়া বেশ কিছু পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্য মেট্রো শপিং মল মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন।
এদিকে ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আওয়ামী লীগের কোনো নেতৃবৃন্দকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে এখনো দেখা যায়নি। তবে দুই-এক জন নেতাকর্মী কালো পোশাকে আসলে তাদের ধাওয়া করতে দেখা যায় ছাত্রদের।এবং সন্দেহ লাগলে যে কোনো ব্যক্তিকে সন্দেহ হলে ছাত্ররা মোবাইল ফোন তল্লাশি করে দেখেন।কিছুক্ষণ পর পর ছাত্ররা মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকে এবং হাসিনা বিরোধী শ্লোগান দিতে থাকে।এসময় ছাত্ররা বক্তব্যে বলে কোন আওয়ামীলীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ এখানে আসতে পারবে না।মূলত তাদের বিরুদ্ধে আমাদের শক্তিশালী অবস্থান।আমরা এখানে পাহাড়ায় আছি।তারা যদি কোন কিছু করার চেষ্টা করে আজকের দিনে তাহলে আমরা ছাত্রজনতা দাঁত ভাঙা জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।