রাজীব দে:
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ ও ইডকল (IDCOL)-এর যৌথ আয়োজনে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এ দেশে চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব ও বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন দেশের খ্যাতনামা উদ্ভাবক ও সোলারিক (SOLARIC)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব দিদার ইসলাম।
প্রদর্শনীতে সোলারিকের ভূ ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে জনাব দিদার ইসলাম বলেন, “বর্তমান এনার্জি ক্রাইসিস উত্তরণের জন্য সবচেয়ে বেশি যুগোপযোগী ও সাশ্রয়ী সমাধান হলো সোলার। সৌরশক্তি সম্পূর্ণ নিখরচায় পাওয়া যায় এবং প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় এটি সহজলভ্য। তবে এই নিখরচা এনার্জিকে কাজে লাগাতে প্রধানত তিনটি বিষয় জরুরি: সরকারের উপযুক্ত নীতিগত সহায়তা (Policy Support), প্রাতিষ্ঠানিক ও বেসরকারি বিনিয়োগ (Investment), এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার ইতোমধ্যে ছোট, মাঝারি ও বৃহৎ সোলার প্রজেক্টের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক পলিসি সাপোর্ট প্রদান করেছে। সেই সাথে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের ঘোষণা এসেছে। তবে পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে। সোলারিক কেবল একটি প্রযুক্তি কোম্পানিই নয়, আমরা একটি ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি হিসেবেও প্রস্তুত। আমরা ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে বৈদেশিক সোলার বিনিয়োগ (Foreign Investment) বাংলাদেশে নিয়ে এসেছি এবং সামনে আরও বিনিয়োগ টানতে প্রস্তুত রয়েছি।”
তিনি ইডকলের মাধ্যমে গ্রাম ও শহরতলির ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং তরুণদের সৌরবিদ্যুৎ খাতে এগিয়ে আসার আমন্ত্রণ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় উদ্যোক্তারা সোলারিকের মতো প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়ে সৌর বিদ্যুৎ খাতের ১০,০০০ মেগাওয়াটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অংশ নিতে পারেন।
উল্লেখ্য, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক জনাব দিদার ইসলাম ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে পাশ করার পর বুয়েট (BUET) এবং পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। সেখানে অ্যানালগ আইসি ডিজাইন নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি তাঁর তৈরি ‘কুইক রেডিও’ প্রযুক্তির ১৩টি আন্তর্জাতিক পেটেন্ট রয়েছে। বাংলাদেশে এসে তিনি ২০০৪ সালে দেশের প্রথম সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি ‘পাওয়ার আইসি’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে ২০০৯ সালে ‘সোলারিক’ যাত্রা শুরু করে। সোলারিক উদ্ভাবিত ৩জি সোলার হোম সিস্টেম (১২০ ভোল্ট ডিসি সলিউশন) যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ও রপ্তানিযোগ্য। বর্তমানে সোলারিক বৃহৎ শিল্প-কারখানার রুফটপ সোলার প্রজেক্টের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।